সৌদি আরবে ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী বাংলাদেশি প্রবাসীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বিদেশি বিনিয়োগ লাইসেন্স। একসময় বাংলাদেশের মাদার কোম্পানির নথিপত্র ব্যবহার করে এই লাইসেন্সের অনুমোদন পেতেন উদ্যোক্তারা। তবে বর্তমানে বাংলাদেশি মাদার কোম্পানির মাধ্যমে নতুন করে অনুমোদন পেতে জটিলতার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের। তাদের দাবি, এ বিষয়ে সৌদি বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়, মিসা থেকে এখনো স্পষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাননি তারা।
২০০০ সালে বিদেশি বিনিয়োগ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সৌদি আরবে বিদেশি বিনিয়োগের কাঠামো গড়ে ওঠে। পরে ভিশন ২০৩০-এর আওতায় বিনিয়োগ ব্যবস্থায় বিভিন্ন পরিবর্তন আনে দেশটির সরকার। ২০২১ সাল থেকে নতুন বিনিয়োগ আইন কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন সংস্কারের ধারাবাহিকতায় বিদেশি বিনিয়োগের নিয়মকানুনেও পরিবর্তন এসেছে।
তবে ব্যবসায়িক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বর্তমানে বাংলাদেশি মাদার কোম্পানির নথিপত্র দিয়ে মিসার অনুমোদন পেতে সমস্যার মুখে পড়ছেন উদ্যোক্তারা। তাদের দাবি, অন্য কয়েকটি দেশের মাদার কোম্পানির মাধ্যমে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা এখনো বিনিয়োগ লাইসেন্সের অনুমোদন পাচ্ছেন। ফলে বাংলাদেশি কোম্পানির ক্ষেত্রে এই জটিলতার কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
ব্যবসায়িক পরামর্শকদের কেউ কেউ বলছেন, অধিক মুনাফার আশায় কিছু অসাধু ব্যাবসায়ী ভুয়া বা অসংগতিপূর্ণ নথিপত্র জমা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে তাদের ধারণা। এর ফলে বাংলাদেশি মাদার কোম্পানির মাধ্যমে করা আবেদনের অনুমোদন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে মিসার কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তারা।
এ অবস্থায় প্রকৃত উদ্যোক্তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বাংলাদেশি কোম্পানির মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ বন্ধ হয়েছে, নাকি নথিপত্র যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এসেছে তা জানতে চান সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সৌদি আরবে বাংলাদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রয়োজন নিয়মকানুন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা, সঠিক নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা। একই সঙ্গে ভুয়া কাগজপত্রের ব্যবহার বন্ধে কার্যকর যাচাইব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
তবে বাংলাদেশি মাদার কোম্পানির মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ লাইসেন্স অনুমোদনের বিষয়ে সৌদি বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ের অবস্থান স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে মিসার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে জটিলতার প্রকৃত কারণ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
সৌদি আরবে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের পথ আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে, এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।