ব্রিটিশ কমেডিয়ান ও অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ডকে ‘যৌন নিপীড়ক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বৃটেইনের প্রসিকিউটররা। ছয় নারীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানিসহ সাতটি ফৌজদারি অভিযোগে তাঁর বিচার শুরু হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে মামলার শুনানি শুরু হলে প্রসিকিউটররা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তবে রাসেল ব্র্যান্ড তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫১ বছর বয়সী রাসেল ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনটি ধর্ষণ, তিনটি যৌন নিপীড়ন এবং একটি শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনাগুলো ১৯৯৯ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ঘটেছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
মামলার শুনানির শুরুতে প্রসিকিউটর রিয়েল কারমি-জোনস আদালতকে বলেন, অভিযোগকারী নারীদের কেউ কেউ ব্র্যান্ডের আচরণে আপত্তি জানিয়েছিলেন এবং তাঁকে ‘না’ বলেছিলেন। অন্যদের ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগও ছিল না বলে প্রসিকিউশনের দাবি। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব পরিস্থিতিতেও ব্র্যান্ড তাঁর আচরণ অব্যাহত রেখেছিলেন।
প্রসিকিউটর আরও বলেন, ব্র্যান্ড কখনো হাস্যরস, কখনো আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে নারীদের কাছে যেতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে নিজের ইচ্ছা পূরণে তিনি চাপ সৃষ্টি করতেন বলেও দাবি করেছে প্রসিকিউশন। আদালতে এসব বক্তব্য তুলে ধরে তাঁকে হিসাবি ও কৌশলী হিসেবে বর্ণনা করেন কারমি-জোনস।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনাগুলো বিভিন্ন স্থানে ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে হোটেল রুম, কর্মস্থল, একটি বারের টয়লেট এবং ব্র্যান্ডের নিজ বাসা। অভিযোগকারী নারীরা একে অপরকে চিনতেন না বলেও আদালতে জানানো হয়েছে।
২০২৩ সালে ব্র্যান্ডকে ঘিরে একটি টেলিভিশন প্রোগ্রাম ও সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সামনে আসে। ওই প্রতিবেদনগুলোতে আরও কয়েকজন নারী তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে তাঁরা বর্তমান মামলার ছয় অভিযোগকারীর অন্তর্ভুক্ত নন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
রাসেল ব্র্যান্ড তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বুধবার আদালতে পৌঁছে তিনি বলেন, বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হলেও আশাবাদী। মামলার বিচারপ্রক্রিয়া প্রায় ছয় সপ্তাহ চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্র্যান্ড ২০০০-এর দশকে ব্রিটিশ টেলিভিশন ও রেডিওতে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি বিবিসি রেডিও ২-তে উপস্থাপনা করেছেন এবং হলিউডের বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। পরবর্তী সময়ে তিনি অনলাইন প্রোগ্রাম ও কনটেন্ট তৈরিতে যুক্ত হন।
মামলার শুনানি চলাকালে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে। এখনো তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত রায় হয়নি।