অ্যামেরিকান প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের প্রেস অফিসে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অফিসটিকে এখন একটি শ্রেণিবদ্ধ নিরাপত্তা এলাকা বা সেনসিটিভ কম্পার্টমেন্টেড ইনফরমেশন ফ্যাসিলিটি-এসসিআইএফ হিসেবে পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।
পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সেক্রেটারি হোসে ভালদেজ সামাজিক মাধ্যমের এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন এ তথ্য।
ভালদেজ তার পোস্টে জানান, পেন্টাগনের কয়েকজন ভাষণলেখক প্রেস অফিসে কাজ করার কারণে এলাকাটি শ্রেণিবদ্ধ নিরাপত্তা এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
একইসঙ্গে ভাষণলেখকরা গোপনীয় তথ্য নিয়ে কাজ করায়, সেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ান জানায়, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে পেন্টাগনে গণমাধ্যম প্রবেশে বাধা সৃষ্টির ঘটনা নতুন নয়।
বরং সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার পদক্ষেপটি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করে আসছে এ দপ্তর। গত সেপ্টেম্বর মাসে সাংবাদিকদের এমন একটি অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করতে বলা হয়, যাতে অনুমোদনহীন কোনো তথ্য বা নথি সংগ্রহ না করার শর্ত দেয়া হয়েছিল। অন্যথায় তাদের প্রেস পাস বাতিল হওয়ার ঝুঁকি ছিল।
অক্টোবরে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পর অনেক অভিজ্ঞ প্রতিরক্ষা প্রতিবেদক নতুন শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাদের প্রেস পাস ফেরত দেন।
একই সময়ে প্রতিরক্ষা দপ্তর ‘পেন্টাগন প্রেস কর্পসের নতুন প্রজন্ম’ নামে একটি উদ্যোগ ঘোষণা করে, যেখানে ডানপন্থী বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ৬০ জন সাংবাদিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ওই সময় এর বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস আদালতের দ্বারস্থ হয়। সংবাদমাধ্যমটির অভিযোগ ছিল, নতুন নীতিমালা সাংবাদিকদের ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে এক ফেডারেল বিচারক নিউইয়র্ক টাইমসের পক্ষে রায় দেন।
তবে পরে পেন্টাগন আরেকটি অন্তর্বর্তীকালীন বিধান জারি করে, যার আওতায় কোনো সরকারি এসকর্ট ছাড়া সাংবাদিকদের পেন্টাগনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।
একজন ডিস্ট্রিক্ট জাজ এই নীতিকে আদালতের আগের আদেশের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করলেও আপিল প্রক্রিয়া চলমান থাকায় তা বহাল রয়েছে।
মে মাসে নিউইয়র্ক টাইমস আবারও পেন্টাগনের বিরুদ্ধে মামলা করে। তাদের দাবি, নতুন নীতিমালা সামরিক বিষয়ক স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং এটি অ্যামেরিকার সংবিধান অনুযায়ী সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী।