জুমার নামাজ না পড়লে হতে পারে ২ বছরের জেল

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২১ ২০২৫, ৯:২৫ হালনাগাদ: ফেব্রুয়ারি ১১ ২০২৬, ১৭:৪৮

বৈধ কারণ ছাড়া জুমার নামাজ না পড়লে পুরুষদের দুই বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

বৈধ কারণ ছাড়া জুমার নামাজ না পড়লে পুরুষদের দুই বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

  • 0

এই সতর্কবার্তা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জুমার নামাজ কেবল একটি ধর্মীয় প্রতীক নয়, মুসলিমদের মধ্যে আনুগত্য প্রকাশের মাধ্যমও।

বৈধ কারণ ছাড়া জুমার নামাজ এড়ালে জেল ও জরিমানের শাস্তি ঘোষণা করেছে মালয়েশিয়ার তেরেংগানু রাজ্য।

দ্য গার্ডিয়ান জানায়, বৈধ কারণ ছাড়া জুমার নামাজ না পড়লে পুরুষদের দুই বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। শারিয়াহ আইনের অধীনে, প্রথমবারে অপরাধীদের জন্য দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৩,০০০ রিঙ্গিট (বাংলাদেশি টাকায় ৮৬,২৬০ টাকা) জরিমানা, অথবা উভয়ই প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য শাসক প্যান-মালয়েশিয়ান ইসলামিক পার্টি (পিএএস)

রাজ্য শাসকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জুমার নামাজ না পড়ার নিয়ম মসজিদের সাইনবোর্ডে জানানো হবে। এছাড়া কেউ নামাজ বাদ দিলে তার নজরদারি হবে সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় ধর্মীয় পুলিশের প্রতিবেদনের ওপর, যারা তেরেংগানু ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে।

তেরেংগানু রাজ্যের বিধানসভা সদস্য মুহাম্মদ খালিল আব্দুল হাদি স্থানীয় সংবাদপত্র বেরিতা হারিয়ানকে বলেন, শাস্তি শুধুমাত্র শেষ উপায় হিসেবে আরোপ করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘এই সতর্কবার্তা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জুমার নামাজ কেবল একটি ধর্মীয় প্রতীক নয়, মুসলিমদের মধ্যে আনুগত্য প্রকাশের মাধ্যমও।’

তেরেংগানু রাজ্য সরকার এ বিষয়ে এখনও কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

রাজ্যের এই পদক্ষেপ নিয়ে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে সমালোচনা। এশিয়া হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লেবার অ্যাডভোকেটস (এএইচআরএলোএ)-এর পরিচালক ফিল রবার্টসন বলেছেন, 'এ ধরনের আইন ইসলামকে খারাপ রূপ দিচ্ছে।' তিনি আরও বলেন, 'ধর্মীয় স্বাধীনতার অর্থ হলো বিশ্বাস না করা বা অংশ না নেওয়ার স্বাধীনতাও, তাই তেরেংগানু কর্তৃপক্ষ এই কঠোর আইনের মাধ্যমে মানবাধিকারের লঙ্ঘন করছে।

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের এই শাস্তি বাতিল করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এই আইন প্রথম ২০০১ সালে প্রবর্তিত হয় এবং ২০১৬ সালে সংশোধন করা হয়, যাতে রমজানকে সম্মান না করা বা জনসমক্ষে নারীদের হয়রানি করার মতো অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয়েশিয়ায় দ্বৈত আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। দেশটিতে ইসলাম রাষ্ট্রের সরকারি ধর্ম হলেও নাগরিক আইনও এর পাশাপাশি কার্যকর।

মালেশিয়ার শরিয়াহ আদালত দেশটির প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ মুসলিমদের ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে।