সংবেদনশীল প্রযুক্তিতে আমেরিকার বিনিয়োগের ওপর প্রস্তাবিত বিধিনিষেধের সম্প্রসারণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সাথে তারা সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানায়। মন্ত্রণালয় বলেছে, নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে চীনকে লক্ষ্য করে বিনিয়োগের ওপর বিধিনিষেধ আরও বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকারও সংরক্ষণের কথা জানিয়েছে বেইজিং।
এর আগে বৃহস্পতিবার ইউএস ট্রেযারি ডিপার্টমেন্ট বিদেশে বিনিয়োগসংক্রান্ত নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর প্রস্তাব প্রকাশ করে। এতে জীবপ্রযুক্তি খাতকে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং ও হাইপারসনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের ওপর নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে।
ট্রেযারি ডিপার্টমেন্টের ভাষ্য, সামরিক ও বেসামরিক—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহারযোগ্য কৌশলগত প্রযুক্তির উন্নয়নে আমেরিকার বিনিয়োগ যাতে বিদেশি প্রতিপক্ষের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা না করে, তা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
বর্তমানে চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সেমিকন্ডাক্টর, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিধিনিষেধ রয়েছে। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে নিয়ন্ত্রণের আওতা আরও বিস্তৃত হবে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রস্তাবটি দুই দেশের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে অর্জিত সমঝোতার পরিপন্থী এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর। গত ছয় মাসে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট দুবার বৈঠক করেছেন।
বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। নতুন প্রস্তাবটি সেই উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত নয়। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নেওয়ার পর চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশ করা হবে।