Skip to main content

ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’, রাতেই বড় হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৮ ২০২৬, ১৪:৫০

ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’, রাতেই বড় হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
  • 0

তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তার দৃষ্টিতে ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা শেষ। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলেও তা টিকবে কি না, সে বিষয়ে তার সন্দেহ আছে। কারণ, তার ভাষায়, তেহরানের আচরণ বিশ্বাসযোগ্য নয়।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতাকে ‘শেষ’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। পারস্য উপসাগরে অ্যামেরিকান সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর বুধবার রাতেই তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এতে গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতার ভিত্তিতে স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তার দৃষ্টিতে ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা শেষ। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলেও তা টিকবে কি না, সে বিষয়ে তার সন্দেহ আছে। কারণ, তার ভাষায়, তেহরানের আচরণ বিশ্বাসযোগ্য নয়।

পরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্প বলেন, “আমি একটু সতর্ক করে দিচ্ছি—আজ রাতে আমরা তাদের ওপর কঠোর হামলা চালাব।” তবে ওয়াশিংটন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফিরছে কি না, কিংবা স্থায়ী চুক্তির আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে কি না—সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেননি। তিনি আলোচকদের কথা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখার কথাও বলেছেন।

সর্বশেষ উত্তেজনার শুরু হরমুজ প্রণালী ঘিরে। ইরান জানায়, অ্যামেরিকান বাহিনী বাণিজ্যিক ট্যাংকারে হামলার জবাবে ইরানি বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পর তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অ্যামেরিকান সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি দাবি করেছে, অভিযানে বাধা দিতে আসা একটি অ্যামেরিকান এমকিউ-নাইন ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে।

বাহরাইনের সামরিক বাহিনী পরে জানায়, তারা ইরানের হামলা প্রতিহত করেছে। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এর আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলরত তিনটি ট্যাংকারে হামলার পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালায় অ্যামেরিকা। অ্যামেরিকান সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, অভিযানে আইআরজিসি ব্যবহার করা ৬০টির বেশি ছোট নৌযানসহ বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, মঙ্গলবার রাতে অ্যামেরিকা ২৮টি নৌযান ধ্বংস করেছে এবং পরে আরও হামলা হতে পারে।

অ্যামেরিকান কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন উৎক্ষেপণস্থল লক্ষ্য করা হয়েছে। ইরানি গণমাধ্যম খার্গ দ্বীপ, কেশম দ্বীপ এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক ও বন্দর আব্বাস এলাকায় বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। তবে সেন্ট্রাল কমান্ড খার্গ দ্বীপে হামলার কথা নিশ্চিত করেনি। ইরানের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ খার্গ দ্বীপ দিয়েই রপ্তানি হয়।

ইরান বলছে, অ্যামেরিকাই যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে। গত ২২ জুন ইরানি অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য বিক্রির জন্য দেওয়া সাময়িক লাইসেন্স মঙ্গলবার বাতিল করে ওয়াশিংটন। অ্যামেরিকা ইরানকে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে চলমান লেনদেন গুটিয়ে নেওয়ার সময় দিয়েছে। তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে যুদ্ধ শেষের কাঠামোগত সমঝোতা লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ভয় দেখানো ও চাপ প্রয়োগের যুগ শেষ; ইরান নতি স্বীকার করবে না। ইরানের সর্বোচ্চ যৌথ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সও অ্যামেরিকান হামলাকে প্রকাশ্য আগ্রাসন আখ্যা দিয়ে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটা অ্যামেরিকার নতুন হামলাকে ‘একেবারেই প্রয়োজনীয়’ বলেছেন। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কালাস বলেন, পাল্টাপাল্টি হামলা যুদ্ধ বন্ধে আগে থেকেই জটিল আলোচনাকে আরও কঠিন করে তুলছে। বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের হামলাকেও তিনি অগ্রহণযোগ্য বলেছেন।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে। জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, অন্তত চারটি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা না করে ফিরে গেছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে সংঘাত বাড়লে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আরও তীব্র হবে।

উত্তেজনার প্রভাবে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম একদিনে ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৪৮ ডলারে উঠেছে। মে মাসের শেষের পর একদিনে এটিই সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন। বিশ্ববাজারে তেলের মজুত কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন এই মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়িয়েছে। ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলোও নিম্নমুখী হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অ্যামেরিকা-ইসরাইলের বিমান হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ থামাতে গত মাসে যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, তেল বিক্রি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন বিরোধে সেটি এখন বড় পরীক্ষার মুখে।