
হাসিনাকে ফেরাতে ঢাকার অনুরোধ কি ভারত অস্বীকার করতে পারবে?

টিবিএন ডেস্ক
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৮ ২০২৫, ১২:২২ হালনাগাদ: ফেব্রুয়ারি ২৩ ২০২৬, ৩:৫৭

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে শেখ হাসিনা। ছবি: এনডিটিভি
- 0
ভারত ও বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী হাসিনাকে দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় আইনি শর্তগুলো পূরণ হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের আদেশের পর ঢাকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভারতকে অবিলম্বে ক্ষমতাচ্যুত নেত্রীকে প্রত্যর্পণের আহ্বান জানিয়েছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-নেতৃত্বাধীন এক বিদ্রোহের মুখে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসার পর থেকে হাসিনা ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন।
বাংলাদেশের অনুরোধ
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যেন তারা অবিলম্বে এই দুই দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।’
এতে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে দুই আসামির হস্তান্তর নয়াদিল্লির জন্য বাধ্যতামূলক দায়িত্ব হিসেবে চিহ্নিত।
মন্ত্রণালয় আরও বলেছে যে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া একটি "অবন্ধুত্বপূর্ণ" কাজ এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞা বলে বিবেচিত হবে।
ভারত কি হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে?
যদিও প্রত্যর্পণের অনুরোধগুলো সাধারণত সৎ বিশ্বাসের সাথে করা হয় তবুও নয়াদিল্লি হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে এমন সম্ভাবনা খুবই কম। ভারতীয় আইন এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তি উভয়ই ভারতকে উল্লেখযোগ্য বিচক্ষণতা প্রদান করে থাকে। বিশেষ করে যখন অনুরোধটি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা অন্যায্য বলে রায় দেওয়া যেতে পারে।
ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি কী বলে?
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অভিন্ন সীমান্তে বিদ্রোহ এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে ২০১৩ সালে প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ২০১৬ সালে আপডেট করা হয়। চুক্তির মূল শর্ত হলো দ্বৈত অপরাধ নীতি—অর্থাৎ অভিযুক্তের কাজ উভয় দেশেই অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে হবে।
যদি অভিযুক্ত প্রমাণ করতে পারে যে প্রত্যর্পণ ‘অন্যায় বা নিপীড়নমূলক বা অপরাধ রাজনৈতিক, তুচ্ছ, তাহলে ভারতের পক্ষ থেকে প্রত্যর্পণ অস্বীকার করা যেতে পারে।
হাসিনাকে দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় আইনি শর্তগুলো পূরণ হয়েছে। তবুও দিল্লির কাছে কিছু কারণ আছে প্রত্যর্পণ অস্বীকার করার। কারণ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভারতের আইনের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে না।
হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি খুন, অপহরণ, সন্ত্রাস বা গুরুতর অপরাধ, যা রাজনৈতিক হিসেবে বিবেচিত হবে না। এছাড়া চুক্তির ৭ নম্বর ধারায় বলা আছে, ভারত যদি নিজেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে, তাহলে প্রত্যর্পণ বাতিল হতে পারে।
সংক্ষেপে বললে, হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করা সম্ভব হলেও ভারতের কাছে কিছু আইনগত সুযোগ আছে সেটি প্রত্যাখ্যান করার।
ভারতের প্রত্যর্পণ আইন
১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইন ভারত সরকারকে পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে প্রত্যর্পণ অস্বীকার করার, মামলা স্থগিত করার বা প্রার্থিত ব্যক্তিকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা দেয়।