তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্য দিয়ে ব্রাযিলে শুরু হয়েছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। রবিবার (৪ অক্টোবর) প্রথম দফার নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইয ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও ডানপন্থি সেনেটর ফ্লাভিও বলসনারো। ফ্লাভিও সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসনারোর ছেলে এবং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।
এবারের নির্বাচনে প্রায় ১৫ কোটি ৯০ লাখ ভোটার ভোট দেওয়ার যোগ্য। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি কংগ্রেসের বিভিন্ন পদ, সেনেটর ও রাজ্য গভর্নর নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে কোনো প্রার্থী বৈধ ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি না পেলে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থী দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে মুখোমুখি হবেন। সে ক্ষেত্রে আগামী ২৫ অক্টোবর রানঅফ অনুষ্ঠিত হবে।
তবে নির্বাচনের আগের সর্বশেষ জরিপগুলোতে লুলা ও বলসনারোর মধ্যে ব্যবধান খুবই কম দেখা গেছে। সংবাদমাধ্যম রয়টার্স-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন জরিপে লুলা সামান্য এগিয়ে থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত কাছাকাছি। যদিও জরিপ কোনো প্রকৃত নির্বাচনের ফল নিশ্চিত করে না।
৮০ বছর বয়সী লুলা পরপর না হলেও চতুর্থবারের মতো, প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করছেন। সামাজিক কর্মসূচি, সরকারি বিনিয়োগ, অর্থনীতি এবং ব্রাযিলের সার্বভৌমত্ব তার প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও বলসনারো তার বাবা জাইর বলসনারোর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছেন। অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ, সরকারি ব্যয় কমানো, অর্থনৈতিক সংস্কার ও বেসরকারীকরণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারে অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টিও সামনে এনেছেন ফ্লাভিও। অন্যদিকে লুলা অ্যামেরিকার হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে ব্রাযিলের সার্বভৌমত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।
অপরাধ, জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি ঋণও ভোটারদের গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ। পাশাপাশি আমাজন বন সংরক্ষণ ও পরিবেশনীতি নিয়েও দুই প্রার্থীর অবস্থান আলোচনায় রয়েছে।
প্রথম দফার ফলেই নির্বাচন শেষ হবে, নাকি ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় গড়াবে—এখন সেটিই ব্রাযিলের রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।