ব্রিটিশ জ্বালানি জায়ান্ট বিপি মঙ্গলবার জানিয়েছে যে ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় তেল পরিশোধন থেকে তাদের মুনাফা গত বছরের তুলনায় তিন গুণ বেড়েছে। তবে একইসাথে, কোম্পানিটি তাদের গ্যাস এবং লো-কার্বন জ্বালানি খাতে সম্পদ মূল্য কমে যাওয়ার কারণে ৩ বিলিয়ন থেকে ৪.৫ বিলিয়ন ডলার লোকসানের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের বাণিজ্যিক পূর্বাভাস বিবৃতিতে বিপি জানায়, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে তাদের পরিশোধন মার্জিন প্রতি ব্যারেলে ৪৬.৭ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ২৯.৬ ডলার। এর ফলে আগের প্রান্তিকের তুলনায় পণ্য বিভাগে মুনাফা ১.৯ থেকে ২.১ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এ পরিস্থিতিতে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
বিপি আরো জানিয়েছে, তৃতীয় প্রান্তিকে গ্যাস বিপণন ও বাণিজ্য থেকে আয় আগের প্রান্তিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। তবে তেল বাণিজ্যের ফলাফল প্রায় অপরিবর্তিত থাকার প্রত্যাশা রয়েছে।
অন্যদিকে, সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির নিট ঋণ ১৩.৫ থেকে ১৪.৫ বিলিয়ন ডলারে নামতে পারে। এর মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক বছর আগেই ঋণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে গ্যাস ও নিম্ন-কার্বন জ্বালানি ব্যবসায় সম্ভাব্য ৩ থেকে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদমূল্য হ্রাস বিপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তৃতীয় প্রান্তিকের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক প্রতিবেদন আগামী ৩০ অক্টোবর প্রকাশের কথা রয়েছে। আগামী ১৫ ডিসেম্বর নিউইয়র্কে নতুন ব্যবসায়িক কৌশলও তুলে ধরবে কোম্পানিটি।
বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে গ্যাস বাণিজ্য ও পরিশোধন থেকে বাড়তি আয় কতটা টেকসই হয়, ঋণ কমানোর অগ্রগতি অব্যাহত থাকে কি না এবং লো-কার্বন ব্যবসায় সম্ভাব্য সম্পদমূল্য হ্রাস কোম্পানির সামগ্রিক মুনাফায় কতটা প্রভাব ফেলে—এসব বিষয়ের ওপর।
সব মিলিয়ে, বিপির তৃতীয় প্রান্তিকের পূর্বাভাসে ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুই ধরনের সংকেত রয়েছে। উন্নত পরিশোধন মার্জিন ও শক্তিশালী গ্যাস বাণিজ্য স্বল্পমেয়াদে আয় বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, সম্ভাব্য বড় অঙ্কের সম্পদমূল্য হ্রাস দেখাচ্ছে যে বাজারের অনুকূল পরিস্থিতি থাকলেও কোম্পানিটির দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক রূপান্তর ও বিনিয়োগের মূল্যায়ন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
মূলত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নি হওয়ায়, রেকর্ড দাম বৃদ্ধির কারণেই জ্বালানি কোম্পানিগুলোর মুনাফা বেড়েছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ব কোম্পানি সৌদি আরামকো-ও সম্প্রতি তাদের মুনাফা বাড়ার কথা জানিয়েছিলো।