দুই স্বজন হারানোয় শোকাহত ভারতীয় দুটি পরিবার। তাদের একজন করেছেন আত্মহত্যা। অন্যজন ছাদ থেকে পড়ে হারিয়েছেন প্রাণ।
দুজনকেই নেওয়া হয়েছিল দিল্লির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সঞ্জয় গান্ধী হাসপাতালে, কিন্তু সেখানেই শেষ হয়নি ঘটনা।
হাসপাতালে মরদেহ দুটি অদল-বদল হয়ে যায়। এর ফলে স্বজন মনে করে অন্যজনের মরদেহ দাহ করে ফেলে এক ভুক্তভোগীর পরিবার।
এনডিটিভি জানায়, গত বুধবার সহোদর পঙ্কজ কুমারের দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে প্রদীপ কুমারকে কল করেন তার শ্যালিকা।
এ বিষয়ে প্রদীপ বলেন, ‘আমার শ্যালিকা আমাকে কল করে বলে, ছাদ থেকে পড়ে গেছে পঙ্কজ। সে আমাকে বাড়িতে ফিরে দ্রুত হাসপাতালে যেতে বলে।’
এনডিটিভির খবরে বলা হয়, দুর্ঘটনার খবরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম-পিসিআরকে জানানো হয় এবং দিল্লির প্রেমনগরের বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী পঙ্কজকে নেওয়া হয় সঞ্জয় গান্ধী হাসপাতালে। সেখানে মৃত্যু হয় এ ব্যক্তির।
ময়নাতদন্তের জন্য পঙ্কজের মরদেহ রাখা হয় হাসপাতালের মর্গে।
প্রায় একই সময়ে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে আনা হয় নাঙ্গলয় এলাকার ৪৫ বছর বয়সী ভারত ভূষণের মরদেহ, যিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।
ভূষণের শ্যালক গোপী বলেন, ‘ময়নাতদন্তের আগে ও পরে মরদেহ আমাদের দেখানো হয়, তবে বাড়িতে নিয়ে লোকজনের দেখার জন্য মরদেহ উন্মুক্ত করিনি আমরা।
‘মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পরপরই প্রার্থনার পর দাহ করার জন্য প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়া হয়েছিল।’
যদিও ভূষণের পরিবার তার মরদেহের পরিবর্তে পায় পঙ্কজ কুমারের মৃতদেহটি। সেটিই দাহ করে ফেলে তারা।
ভূষণের সঙ্গে ১৫ বছর সংসার করা তার স্ত্রী লতার অভিযোগ, তার স্বামীর মরদেহ দেখানো হয়েছে দূর থেকে। তারা মর্মপীড়ায় ছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত মরদেহ অদল-বদলে গিয়ে ঠেকে।
লতা আরও বলেন, ‘আমরা কেবল চোখ দেখেছি। এখন আমার স্বামীর ছবি আমাদের দেখানো হয়েছে, যে এখনও আছে মর্গে।’
পঙ্কজের পরিবার বৃহস্পতিবার হাসপাতালে তার মরদেহ আনতে গিয়ে বুঝতে পারে, তাদের স্বজনকে এরই মধ্যে দাহ করে ফেলা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, মরদেহগুলো সামলানোর ক্ষেত্রে হাসপাতালের মারাত্মক অবহেলা ছিল। যথাযথভাবে মরদেহ শনাক্তের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
ঘটনার তদন্ত করতে স্থানীয় পুলিশের উপকমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন পঙ্কজের ভাই প্রদীপ।