দক্ষিণ লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পরপর বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে ইসরায়েলি হামলায় বাস্তুচ্যুত মানুষেরা।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, শুক্রবার ভোরে যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টার ভিতর বাস্তুচ্যুত মানুষদের ভিড় দেখা যায় দক্ষিণ লেবাননমুখী প্রধান সড়কগুলোতে।
বেশিরভাগই গাড়িতে গাদাগাদি করে বাড়ি ফিরছেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, সঙ্গে আছে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। কেউ কেউ আবার ফিরতি পথে হাত তুলে উড়াচ্ছেন হিজবুল্লাহর পতাকা, করছেন আনন্দ-উল্লাস।
বাড়ি ফেরত মানুষদের সহায়তা করছে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন, ত্রাণ ও সামাজিক সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকরা।
লেবাননের ক্যাথলিক নেতা কার্ডিনাল বেচারা বুত্রোস বলেছেন, ‘আজ শান্তি ও ভালোবাসার দিন। কারণ এটি যুদ্ধবিরতির প্রথম দিন।’
তবে ঘোষণা অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কায় আছেন যাত্রারত ভুক্তভোগীরা। পাশপাশি ইসরায়েলের সঙ্গে লেবানন সরকারের এ যুদ্ধবিরতির চুক্তি হিজবুল্লাহ মেনে নিবে কি না, এ বিষয়েও আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন অনেকে।
ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির এ চুক্তি ওয়াশিংটন ডিসিতে অ্যামেরিকার মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে হয়েছে।
তারা এ আলোচনায় অংশ নেয়নি এবং চুক্তি মানার বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ভোরে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘আশা করি এ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হিজবুল্লাহ সদাচারণ করবে।
‘যদি তারা এমনটা করে, এটি তাদের জন্যও ভালো সুযোগ বয়ে আনবে।’
তবে যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন জানিয়েছেন, সরকার দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, তাদের বাহিনী দখল করা এলাকাগুলো ছাড়বে না।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের যেসব এলাকা দখল ও সাফ করেছে সেখানে অবস্থান বজায় রাখবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি বাফার জোন তৈরি করবে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে হিজবুল্লাহ কর্তৃক ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণার পর লেবাননে শুরু হয় ইসরায়েলি হামলা।
৬ সপ্তাহ ধরে চলমান এ হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন দেশটির প্রায় ২ হাজার ১০০ জন মানুষ।