ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে অবৈধ অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকাতে ফ্রান্সের সঙ্গে নতুন তিন বছরের চুক্তি করেছে বৃটেইন। বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় সর্বোচ্চ ৬৬০ মিলিয়ন পাউন্ড দেবে লন্ডন। যৌথ নজরদারি, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার করাই এর মূল লক্ষ্য।
নতুন চুক্তি অনুযায়ী, প্রায় ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করা হবে উত্তর ফ্রান্সের সৈকত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে। এর আওতায় প্রায় এক হাজার ১০০ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সদস্য ও সামরিক সদস্য মোতায়েন করা হবে।
এ ছাড়া আরও ১৬০ মিলিয়ন পাউন্ড দেওয়া হবে শুধুমাত্র তখনই, যদি নতুন পদক্ষেপগুলো অবৈধ পারাপার ঠেকাতে কার্যকর প্রমাণিত হয়। অন্যথায় এক বছর পর অতিরিক্ত অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাবে।
বৃটেইনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, এই চুক্তির ফলে পুলিশি সক্ষমতা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। মানবপাচার চক্র দমনে এটি বড় পদক্ষেপ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শাবানা বলেন, “সামগ্রিকভাবে এটি একটি ঐতিহাসিক চুক্তি। মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে এটি আমাদের শক্তিশালী করবে।”
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ বলেন, এই সমঝোতার ফলে ফরাসি উপকূলে নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সীমান্ত পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত জনবল ৫৩ শতাংশ বাড়িয়ে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ করা হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ৪১ হাজার মানুষ ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ইংল্যান্ডে পৌঁছায়। এটি ২০২২ সালের রেকর্ড সংখ্যার কাছাকাছি। বৃটেইন সরকার জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের লেবার সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ৪২ হাজারের বেশি অবৈধ পারাপারের চেষ্টা ঠেকানো হয়েছে।
নতুন এই চুক্তি ২০২৩ সালে হওয়া প্রায় ৪৮০ মিলিয়ন পাউন্ডের আগের তিন বছরের চুক্তির স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে, যার মেয়াদ চলতি বছরের শুরুতে শেষ হয়।