নারীর ছদ্মবেশে পালিয়েছেন বিন লাদেন, চাঞ্চল্যকর দাবি সিআইএ কর্মকর্তার

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫ ২০২৫, ১২:২১

আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন। ছবি: রয়টার্স

আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন। ছবি: রয়টার্স

  • 0

সেন্ট্রাল কমান্ডের এক কমান্ডারের অনুবাদক আসলে ছিলেন আল-কায়েদার এক সদস্য, যিনি অ্যামেরিকার সেনাবাহিনীতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর অ্যামেরিকার সর্বাধিক ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী হিসেবে যখন তল্লাশির মুখে ছিলেন আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন। এসময় তিনি তোরা বোরা পাহাড় থেকে নারীর ছদ্মবেশে পালিয়ে যান। এমনটাই জানিয়েছেন, সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা জন কিরিয়াকু।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কিরিয়াকু আরও জানান, তিনি সিআইএ-তে ১৫ বছর কর্মরত ছিলেন এবং পাকিস্তানে সিআইএর কাউন্টার টেরোরিজম অপারেশনের প্রধান ছিলেন।

তিনি দাবি করেন, তারা তখন জানতেন না যে, সেন্ট্রাল কমান্ডের এক কমান্ডারের অনুবাদক আসলে আল-কায়েদার এক সদস্য, যিনি অ্যামেরিকার সেনাবাহিনীতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন।

কিরিয়াকু বলেন, সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা জন কিরিয়াকু জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে তখন এক অনুপ্রবেশকারী আল-কায়েদা সদস্য অনুবাদক হিসেবে কাজ করছিলেন, যা কেউ জানত না।

তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম যে ওসামা বিন লাদেন তোরা বোরায় কোণঠাসা অবস্থায় আছে। আমরা তাকে বলেছিলাম পাহাড় থেকে নেমে আসতে। তখন অনুবাদক আমাদের জানায়, বিন লাদেন বলেছে “ভোর পর্যন্ত একটু সময় দিন, আমরা নারী ও শিশুদের সরিয়ে দেব, তারপর আত্মসমর্পণ করব।”

কিরিয়াকুর মতে, ওই অনুবাদক জেনারেল ফ্র্যাংকসকে রাজি করান এই অনুরোধ মেনে নিতে। কিন্তু আসলে তখন বিন লাদেন একজন নারীর পোশাক পরে, রাতের অন্ধকারে একটি পিকআপ ট্রাকের পেছনে চড়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যান।

তিনি জানান, ভোরে সূর্য ওঠার পর দেখা যায়, তোরা বোরায় আত্মসমর্পণ করার মতো কেউই নেই। সবাই পালিয়ে গেছে। এরপর আমাদের যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায়, লড়াই সরাসরি পাকিস্তানের দিকে চলে যায়।

অ্যামেরিকায় আল-কায়েদা জঙ্গিদের তোরা বোরা পাহাড়ে ঘিরে ফেলার পর তাদের পাকিস্তানে পালিয়ে যাওয়া এবং অ্যামেরিকা ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার সময় এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন কিরিয়াকু।

এরপরে ২০১১ সালের মে মাসে উত্তর পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ শহরে ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে বের করে আমেরিকা। ২ মে বিশেষ বাহিনী তার সেফ হাউসে অভিযান চালিয়ে তাকে হত্যা করে।