আবাসন খাতের শীর্ষ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সি-এফএইচএফএর বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ নজরদারিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংস্থাটির প্রধান প্রেসিডেন্ট বিল পাল্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অভ্যন্তরীণ নজরদারি বিভাগকে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। যার ফলে, সরকারের আওতাধীন ফ্যানি মে ও ফ্রেডি ম্যাকসহ আবাসন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তদারকি কার্যক্রম পর্যালোচনায় বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
কংগ্রেসে শুক্রবার পাঠানো এক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এফএইচএফএর ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় (ওআইজি) চলতি মাসের শুরুতে প্রতিবেদনটি তৈরি করে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত তিনটি পৃথক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সরবরাহ করেনি এফএইচএফএ। এ ধরনের বাধাকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছে নজরদারি বিভাগ।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে এফএইচএফএ। সংস্থাটির এক মুখপাত্র বলেছেন, তারা ওআইজির সঙ্গে সহযোগিতা করেছে। সাম্প্রতিক তিনটি পর্যালোচনার জন্য ৫৬টি নথি সরবরাহের অনুরোধ পূরণ এবং ১৬টি বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
ফ্যানি মে ও ফ্রেডি ম্যাক আমেরিকার আবাসন ঋণবাজারের গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রতিষ্ঠান। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর থেকে এগুলো সরাসরি এফএইচএফএর তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
২০২৫ সালের মার্চে এফএইচএফএর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিল পাল্টে প্রতিষ্ঠান দুটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের পদেও দায়িত্ব নেন। তার নেতৃত্বে সংস্থাটির কার্যক্রম বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে পড়েছে।
এদিকে, সম্প্রতি এফএইচএফএ ওআইজির বাজেটের বড় অংশ কমিয়ে দিয়েছে। এতে নজরদারি বিভাগের প্রায় ৮০ শতাংশ কর্মী, অর্থাৎ ৮০ জনের চাকরি ঝুঁকিতে পড়েছে। ওআইজির ভারপ্রাপ্ত প্রধান জেমস হজ আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, বাজেট কমানোর ফলে সংস্থাটির পক্ষে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়বে।
রয়টার্সের পর্যালোচনা অনুযায়ী, অন্তত এক দশকের মধ্যে এই প্রথম এফএইচএফএর বিরুদ্ধে নিজেদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে ওআইজি। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আকস্মিকভাবে বাজেট কমানোর ফলে ভবিষ্যতে এফএইচএফএর কার্যক্রমের ওপর কার্যকর নজরদারি চালানো সম্ভব হবে না।