চলতি মাসে বাংলাদেশের বাজারে কয়েক দফায় অল্প হারে কমার পর আবারও বেড়েছে সোনার দাম।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি-বাজুস জানায়, আজ বুধবার ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৩, ২২, ২৩ ও ২৫ অক্টোবর কয়েক দফায় ভরিতে প্রায় ১০ হাজার ৪০০ টাকা কমেছিল সোনার দাম।
অন্যদিকে, ভারতে গত জানুয়ারি মাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড মূল্যের পর গত কয়েক মাসে অভাবনীয়ভাবে কমেছে মূল্যবান এ ধাতুর দাম।
দেশটির বাজারে গত ২৯ জানুয়ারি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ২২৩ রুপি। আজ বুধবার সেখানে এই স্বর্ণের গড় দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯০৪ রুপি।
কয়েক মাসের ভিতর দরপতনের এ পার্থক্য দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৫২ হাজার টাকা।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমলেও প্রতিবেশী এ দুই দেশের একটিতে স্বর্ণের বাজারদরের বড় ধরনের পতন, অন্যদিকে বাংলাদেশে মূল্য পরিস্থিতির পার্থ্যক্য কেন কম? কারণ জানাচ্ছে এ প্রতিবেদন।
ডলারের বিপরীতে দুই দেশের মুদ্রা বিনিময়ে হার
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ হয় ডলারের মাধ্যমে। ভারতে ১ ডলারের সমান ৯৫ দশমিক ২০ রুপি। অন্যদিকে বাংলাদেশের ১২৩ দশমিক ৯৭ টাকায় কিনতে হয় ১ ডলার। ডলারের বিপরীতে দুই দেশের মুদ্রা বিনিময় মানের এ পার্থক্য স্বর্ণ আমদানি ও ক্রয় করতে বড় ব্যবধান তৈরি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমলেও দুই দেশের বাজারদরে তৈরি হয়েছে বড় পার্থক্য।
ডলার রিজার্ভে বড় পার্থক্য
ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ডলারের রিজার্ভ বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় ১৯ গুণ বড়।
দেশটিতে ডলারের রিজার্ভ আছে ৭৩৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে বাংলাদেশে আছে ৩৬ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার।
ডলারের রিজার্ভ কম ও চাহিদা বেশি হলে মুদ্রার বিনিময় মান কমে এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনে স্বর্ণের ব্যবহার বেশি করা লাগে। ফলে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম কমানো কঠিন হতে পারে।
বাংলাদেশে আমদানির সীমাবদ্ধতা
বিশ্বের অন্যতম বড় স্বর্ণের ভোক্তা হিসেবে পরিচিত দেশ ভারতে অনুমোদিত ব্যাংক ও বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্বর্ণ আমদানি করা হয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশে কিছু ব্যাংক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অনুমতি থাকলেও প্রকিয়াগত জটিলতায় আশানুরূপ স্বর্ণ আমদানি এখনও সম্ভব হয়নি। ফলে অনেকাংশেই বিদেশ ফেরত যাত্রীদের আনা কম পরিমাণ স্বর্ণ ও পুরনো সোনা গলিয়ে ব্যবহারের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করতে বাংলাদেশকে।
একদিকে আমদানির মাধ্যমে স্বর্ণের পর্যাপ্ত মজুত, অন্যদিকে মূল্যবান এ ধাতুর অপ্রতুলতা-দুই দেশে দামের বড় পার্থক্য তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক দর কমলেও স্থানীয় প্রভাবে ভিন্নতা
ভারত ও বাংলাদেশে স্বর্ণ আমদানি, শুল্ক ও কর ব্যবস্থার ওপরে স্থানীয় পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামের ভিন্নতা দেখা যায়। বিশেষ করে বাংলাদেশের বাজারে পুরনো স্বর্ণের বড় ধরনের ব্যবহার থাকায় সহজে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারেন ব্যবসায়ীরা।