লামিনে ইয়ামালের দুর্দান্ত ড্রিবলিং ও দুইটি অ্যাসিস্টের নৈপুণ্যে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গ্যালাতাসারেকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা। ম্যাচে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে অ্যাসিস্ট করার আগে ইয়ামালের ব্যতিক্রমী এক ফুটবল কৌশল দর্শকদের নজর কাড়ে। নিজের এই কৌশলকে ‘সেমি রাবোনা’ বলে বর্ণনা করেছেন বার্সেলোনার এই তরুণ তারকা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে রামস পার্ক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে এই জয় পায় কাতালান ক্লাবটি।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ইয়ামালের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ঘুরে দাঁড়ায় বার্সেলোনা। গ্যালাতাসারেয়ের রক্ষণভাগকে বারবার চাপে ফেলে সতীর্থদের জন্য গোলের সুযোগ তৈরি করেন তিনি। ম্যাচে তাঁর দুটি অ্যাসিস্টের একটি আসে ফারমিন লোপেজের গোলে, অন্যটি গর্ডনের গোলে।
গর্ডনের গোলের আগে ইয়ামালের দেখানো কৌশলটি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। বল নিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের সামনে দাঁড়িয়ে রাবোনার মতো শট নেওয়ার ভঙ্গি করে তিনি প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করেন। এরপর দ্রুত দিক পরিবর্তন করে সতীর্থের জন্য বল বাড়িয়ে দেন। তাঁর এই বুদ্ধিদীপ্ত মুভে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়ে।
ম্যাচ শেষে সিবিএস স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল বলেন, এই কৌশলকে কী নামে ডাকা যায়, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে তাঁর ভাষায়, এটিকে ‘সেমি রাবোনা’ বলা যেতে পারে। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কৌশলটি কাজে এসেছে এবং গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ইয়ামাল আরও জানান, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা অনেক সময় তাঁকে আটকাতে গিয়ে বাইলাইনের কাছে নিচে ঝুঁকে বা পড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাই পরিস্থিতি বুঝে তিনি এমন একটি ফেইন্ট ব্যবহার করেন, যাতে নিজের জন্য জায়গা তৈরি করা যায়। তাঁর মতে, প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করে জায়গা বের করে নেওয়া ফুটবলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই জয়ের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চলতি আসরে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে বার্সেলোনা। ম্যাচে ইয়ামালের পারফরম্যান্স তাঁকে ম্যাচসেরার স্বীকৃতিও এনে দেয়। চলতি আসরে দুই ম্যাচে তাঁর অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটিতে।
বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিকও ইয়ামালের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, ইয়ামালের মতো মানসম্পন্ন খেলোয়াড় দলে থাকা দলের জন্য বড় সুবিধা। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর সৃজনশীলতা বার্সেলোনাকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে।