দক্ষিণ আফ্রিকায় চাঁদা নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে বন্দুক হামলায় এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। দেশটির কেপটাউনের বুস্টার এলাকায় বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গুলিবিদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
হামলায় নিহত ওই বাংলাদেশি ব্যক্তি হলেন মারুফ বেপারি। তিনি শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার সিডা ইউনিয়নের সন্তান। তারা বাবা প্রয়াত আব্দুস সোবহান বেপারি।
ডামুড্যা থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলম নিশ্চিত করেছেন মৃত্যুর তথ্য।
তিনি জানান,প্রথমে বৃহস্পতিবার মারুফের মৃত্যুর খবর তার পরিবারের কাছে পৌঁছায়। পরে নিহত ভুক্তভোগীর স্বজনদের কাছ থেকে খবরটি তিনি জানতে পারেন তিনি।
ওসি জাহাঙ্গীর জানান, স্বজনদের দাবি স্থানীয় চাঁদাবাজদের অর্থ না দেওয়ায় মারুফকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
স্বজনদের বরাতে এখন পর্যন্ত জানা গেছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় বুস্টার এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্থানীয় একটি গোষ্ঠী মারুফের কাছে প্রতি মাসে দক্ষিণ আফ্রিকান ৫০০ র্যান্ড দাবি করতেন। সম্প্রতি চাঁদার টাকা নিয়ে তাদের সঙ্গে মারুফের বিরোধ হয়। এর জেরেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করে স্থানীয় প্রবাসীরা।
মারুফের ভাইয়ের ছেলে কামরুজ্জামান বেপারি বলেন, ‘’আফ্রিকার ওই এলাকায় ব্যবসা করলে স্থানীয় চাঁদাবাজদের প্রতি মাসে ৫০০ র্যান্ড দিতে হয়।
‘’আমার কাকা তিন মাসের মধ্যে এক মাস দোকান চালিয়েছেন, বাকি দুই মাস বন্ধ ছিল। তাই তিনি শুধু এক মাসের চাঁদা দিতে চেয়েছিলেন।‘’
জীবিকার তাগিদে ১৪ বছরেরও বেশি সময় আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন মারুফ। সেখানে ব্যবসা করে উপার্জন করতেন তিনি।
মৃত্যুকালে তিনজন সন্তান রেখে গেছেন ভুক্তভোগী মারুফ। তার মৃত্যুতে পুরো পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
স্বজনরা জানান, তার মৃতদেহটি দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে রয়েছে। দ্রুত লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।