৫ বছরে বাংলাদেশে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৮ বিলিয়ন ডলার: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি: বাসস
- 0

প্রকাশিত: জুন ৮ ২০২৬, ১৪:৫২ হালনাগাদ: জুন ৮ ২০২৬, ১৯:২৫

গত পাঁচ অর্থবছরে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। পূর্ববর্তী সরকারগুলোর ভুল নীতির কারণে এ ঘাটতি বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৬ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার থাকা বাণিজ্য ঘাটতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে ২৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘পূর্ববর্তী সরকারগুলোর ভুল নীতির কারণে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে।’
তবে তিনি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, ডলার–সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতিকেও বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি সর্বোচ্চ ২৮ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এরপর ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কমে ২৭ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আবার বেড়ে ২৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি আয় ছিল ৫৫ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। আর আমদানির পরিমাণ ছিল ৭৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার।
আগের অর্থবছরে রপ্তানি ছিল ৫১ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ছিল ৭২ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সরকার রপ্তানি খাতের বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ২০২টি দেশ ও অঞ্চলে পণ্য রপ্তানি করলেও মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে।
একক খাতের ওপর নির্ভরতা কমাতে অন্যান্য সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতেও পোশাকশিল্পের মতো প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, ওষুধ, আইসিটি ও সফটওয়্যার সেবা, হালকা প্রকৌশল, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক পণ্য—এই আটটি খাতের আংশিক রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া রপ্তানি বহুমুখীকরণে সরকার ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট, ওয়ান প্রোডাক্ট’ কর্মসূচি চালু করেছে। জাপান ও থাইল্যান্ডের আদলে নেওয়া এ কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬৪ জেলার জন্য ১৪টি সম্ভাবনাময় পণ্য চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার মালয়েশিয়া, তুর্কিয়ে, নিউজিল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের সঙ্গে একই চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে তৃতীয় দফা আলোচনা আগামী আগস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

