গুয়াংজো, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও সাও পাওলোতে নতুন কনস্যুলেট খুলবে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ছবি: বাসস
- 0

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১ ২০২৬, ২০:৩১

চীন, জার্মানি ও ব্রাজিলের তিন গুরুত্বপূর্ণ শহরে নতুন কনস্যুলেট জেনারেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। শহর তিনটি হলো—চীনের গুয়াংজো, জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং ব্রাজিলের সাও পাওলো।
নতুন কনস্যুলেটগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, যানবাহন ও অফিস সরঞ্জাম সাংগঠনিক কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদনও পাওয়া গেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনটি শহরই বাংলাদেশের কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কনস্যুলার স্বার্থের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
কেন গুয়াংজোতে কনস্যুলেট?
দক্ষিণ চীনের অন্যতম প্রধান বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গুয়াংজোতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও প্রবাসীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের সঙ্গে এ অঞ্চলের বাণিজ্যিক সম্পর্কও রয়েছে।
বর্তমানে চীনে বাংলাদেশের বেইজিং ও কুনমিংয়ে মিশন রয়েছে। তবে গুয়াংজোর সঙ্গে এসব মিশনের দূরত্ব বেশি হওয়ায় সেখানে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও কনস্যুলার কার্যক্রম পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছে।
নতুন কনস্যুলেট চালু হলে দক্ষিণ চীনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রবাসীসেবা সরাসরি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
ফ্রাঙ্কফুর্টে বাণিজ্য ও প্রবাসীসেবায় গুরুত্ব
জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও ব্যবসায়িক কেন্দ্র।
জার্মানি বাংলাদেশের অন্যতম বড় রপ্তানি বাজার। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি গন্তব্য।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯ বিলিয়ন ইউরো।
জলবায়ু, জ্বালানি, সুশাসন, অভিবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই সরবরাহব্যবস্থাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা রয়েছে।
ফ্রাঙ্কফুর্টে কনস্যুলেট চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের পাশাপাশি জার্মানিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা আরও সহজ করার লক্ষ্য রয়েছে।
সাও পাওলোতে বাড়বে লাতিন আমেরিকায় উপস্থিতি
ব্রাজিলের সাও পাওলো দেশটির অন্যতম প্রধান শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র।
সাও পাওলোতে কনস্যুলেট স্থাপনের মাধ্যমে লাতিন আমেরিকায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ব্রাজিল দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি এবং ব্রিকসের সদস্য। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগও বেড়েছে।
নতুন কনস্যুলেট চালু হলে লাতিন আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগ সম্প্রসারণ, বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান এবং ব্রাজিলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে তা ভূমিকা রাখতে পারে।
তিন মহাদেশে কূটনৈতিক উপস্থিতি
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তার মতে, গুয়াংজো, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও সাও পাওলোতে কনস্যুলেট স্থাপনের ফলে এশিয়া, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উপস্থিতি বিস্তৃত হবে।
একই সঙ্গে এসব অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা দেওয়ার সক্ষমতাও বাড়বে।
তবে নতুন কনস্যুলেটগুলো কবে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।

