দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় নির্বাচনে ব্যালট ঘাটতির অভিযোগে বিক্ষোভ শুরুর পর দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় প্রসিকিউটর ও পুলিশকে সম্পৃক্ত করা হবে। পাশাপাশি ওই ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের এক পোস্টে রোববার মিয়ং বলেন, ‘একজন নাগরিক এবং সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে এ ঘটনার জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি।’
দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থানীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের মেয়র, প্রাদেশিক গভর্নর, কাউন্টি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় পরিষদের সদস্যদের বেছে নেওয়া হয়।
কিন্তু গত ৩ জুন অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনের সময় রাজধানী সিউল, ইনচনসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ব্যালট পেপার ফুরিয়ে যায়। ভোট চলাকালীন প্রায় ১৪ হাজার ৩০০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে কমপক্ষে ৫০টি কেন্দ্রে ব্যালট সংকট দেখা দেয় এবং ২২টি কেন্দ্রে সাময়িকভাবে ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। ফলে ভোট না দিয়েই কেন্দ্র থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হন অনেক ভোটার।
ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ শুরু করলে দেশটিরনির্বাচন তদারককারী স্বাধীন সংস্থা ন্যাশনাল ইলেকশন কমিশন-এনইসির প্রধান পদত্যাগ করেন।
ওই ঘটনায় প্রেসিডেন্ট মিয়ং বলেন, ‘ঘটনাটি বোঝা কঠিন এবং এ বিষয়ে এনইসির প্রতিক্রিয়া ও ব্যাখ্যা সন্তোষজনক নয়।‘
তিনি সংসদকে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে করণীয় নির্ধারণ এবং নির্বাচন কমিশনের সংস্কার নিয়ে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে দেশটির বিরোধী রক্ষণশীল পিপল পাওয়ার পার্টির নেতা জ্যাং ডং-হিয়ক রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে যৌথ নিরীক্ষার দাবি জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, ব্যালটপত্রের ঘাটতি বিশেষ করে রক্ষণশীল সমর্থক এলাকাগুলোতে বেশি দেখা গেছে। তবে তিনি পুনর্নির্বাচনের দাবি না জানিয়ে বলেন, জনগণ যা সিদ্ধান্ত দেবে, তিনি তা মেনে নেবেন।