স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার কিছু পর দেশটির মাদ্রিদ থেকে সেভিলগামী রেলপথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ঢালের নিচে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে ১০ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। পরবর্তীতে ৩০ জন নিহতের খবর নিশ্চিত করা হয়। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের জানায়, ইরিও পরিচালিত ট্রেনটিতে ১৪৭ জন এবং রেনফে পরিচালিত ট্রেনটিতে ৩৯৭ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, লাইনচ্যুত একটি ট্রেনের অন্তত একটি বগি উঁচু রেলপথের ওপর রয়েছে। রেললাইনের নিচের ঢালে ছড়িয়ে আছে ট্রেনের ভাঙা ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বিভিন্ন অংশ।
একটি ট্রেনের পেছনের বগিতে থাকা এক যাত্রী মিগেল জানান, দুর্ঘটনার সময় প্রচণ্ড শব্দ ও ধাক্কা অনুভব করেন তারা। প্রায় ১০ সেকেন্ড ধরে ওই শব্দ চলতে থাকে। তখন মনে হচ্ছিল, ট্রেনটি লাইনচ্যুত হতে যাচ্ছে। জানালা দিয়ে তাকিয়ে তিনি আরেকটি বিধ্বস্ত ট্রেন দেখতে পান।
স্পেনে গত এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে একই রেলপথে এটি দ্বিতীয় প্রাণঘাতী ট্রেন দুর্ঘটনা। গত জানুয়ারিতে কর্দোবা প্রদেশের আদামুজের কাছে একটি দ্রুতগতির ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। ওই দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হন।
জানুয়ারি মাসের দুর্ঘটনার পর স্পেনের রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের বুধবারের সব কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সানচেজ দুর্ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
আগামী মাসে স্পেনের আগাম নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধী দল পিপলস পার্টিও তাদের সব নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচি স্থগিত করেছে।