গ্রিন কার্ড ইন্টারভিউ শেষ হতেই গ্রেপ্তার, আইসের নজিরবিহীন অভিযান

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭ ২০২৫, ৯:৪৮ হালনাগাদ: ডিসেম্বর ৩ ২০২৫, ১৪:৫৪

ট্রাম্প প্রশাসন কোনো নীতি পরিবর্তনের ঘোষণা না দিয়েই এসব গ্রেপ্তার করছে। ছবি: টিবিএন কোলাজ

ট্রাম্প প্রশাসন কোনো নীতি পরিবর্তনের ঘোষণা না দিয়েই এসব গ্রেপ্তার করছে। ছবি: টিবিএন কোলাজ

  • 0

তবে অতীতে গ্রিন কার্ড আবেদন চলাকালে তাদের এভাবে গ্রেপ্তার করা খুবই বিরল ছিল।

গত সপ্তাহে সান ডিয়েগোর একটি ফেডারেল ভবনে বেশ কয়েকজন দম্পতি তাদের গ্রিন কার্ড ইন্টারভিউর জন্য উপস্থিত হন। প্রতিটি দম্পতির মধ্যেই একজন অ্যামেরিকান নাগরিক। স্টিফেন পল এসেছিলেন তার ব্রিটিশ স্ত্রী ও চার মাসের শিশুকে নিয়ে। অড্রি হেস্টমার্ক এসেছিলেন তার জার্মান স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে, জেসন করডেরো এসেছিলেন তার মেক্সিকান স্ত্রীকে নিয়ে।

ইন্টারভিউটি হওয়ার কথা ছিল একটি আনন্দের মুহূর্ত। অ্যামেরিকায় স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার শেষ ধাপ। তবে ঘটলো উল্টো। প্রতিটি ইন্টারভিউ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেডারেল এজেন্টরা হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ে। বিদেশি স্বামী বা স্ত্রীকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায়।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশের বিভিন্ন শহরের ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা লক্ষ্য করেছেন—ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)এর অফিসে গ্রিন কার্ড ইন্টারভিউ চলাকালে অ্যামেরিকান নাগরিকদের বিদেশি স্বামী–স্ত্রীদের গ্রেপ্তারের ঘটনা হঠাৎ বেড়ে গেছে।

সান ডিয়েগোতেই শুধু ১২ নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক ডজন বিদেশে জন্মগ্রহণকারী স্বামী–স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয় ইমিগ্রেশন আইনজীবীদের ধারণা।

প্রতিটি মামলায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কর্মকর্তারা আবেদনকারী দম্পতিকে বলেন যে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী তাদের পর্যটক বা ব্যবসায়িক ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় বলা আছে, ‘উক্ত ব্যক্তিকে অ্যামেরিকা থেকে অপসারণযোগ্য বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।’

তবে এসব দম্পতি এবং তাদের আইনজীবীদের দাবি, তারা সব নিয়ম মেনে চলেছেন। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দিয়েছেন, ফি পরিশোধ করেছেন। বিদেশি স্বামী–স্ত্রীদের আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়েছিল, তারা মেডিকেল পরীক্ষাও পাস করেছেন। কারও বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। কেউ অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করেননি। তারা আগেই কাজ করার অনুমতিও পেয়েছিলেন।

গ্রিন কার্ড আবেদনের সময় ‘স্ট্যাটাস পরিবর্তন’ প্রক্রিয়া চলতে কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় লেগে যায়। এই সময়ে আবেদনকারীদের অস্থায়ী ভিসা প্রায়ই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়।

কংগ্রেস ১৯৮৬ সালে একটি আইন পাস করে, যেখানে বলা আছে—যে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী বৈধভাবে অ্যামেরিকায় প্রবেশ করেছে তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে গ্রিন কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা থাকবে।

যদিও ফেডারেল আইনে মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসাধারী বিদেশি স্বামী–স্ত্রীদের আটক ও বহিষ্কার প্রক্রিয়ায় পাঠানো নিষিদ্ধ নয়। তবে অতীতে গ্রিন কার্ড আবেদন চলাকালে তাদের এভাবে গ্রেপ্তার করা খুবই বিরল ছিল।

ট্রাম্প প্রশাসন কোনো নীতি পরিবর্তনের ঘোষণা না দিয়েই এসব গ্রেপ্তার করছে।

কোনো নতুন নির্বাহী আদেশ, নিয়ম পরিবর্তন বা আইস নীতি আপডেট নেই—যা দেখে অ্যামেরিকান নাগরিকরা বুঝতে পারতেন যে তাদের স্বামী বা স্ত্রী ঝুঁকিতে আছেন।

এদিকে ট্রাম্প ব্যাপক বিতাড়ন কার্যক্রমের জন্য প্রচুর নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দিলেও আটক ও বিতাড়নের গতি প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় প্রশাসনের ভেতরে হতাশাও বেড়েছে।

সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারগুলো আইস এ নেতৃত্ব পরিবর্তনের সময় এসেছে। এর মধ্যে সান ডিয়েগো অঞ্চলও রয়েছে।