অ্যামেরিকার সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা ধীরগতির হওয়ার জন্য আস্থার সংকট, ওয়াশিংটনের পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং অঞ্চলে অব্যাহত ইসরাইলি হামলাকে দায়ী করেছে ইরান।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, অ্যামেরিকা যদি আলোচনায় কৌশল হিসেবে পরস্পরবিরোধী বার্তা দিয়ে থাকে, তাহলে তা ইরানের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না। আর যদি এসব বার্তা অ্যামেরিকান প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার প্রতিফলন হয়, তাহলে ওয়াশিংটনের উচিত দ্রুত একটি সুস্পষ্ট ও চূড়ান্ত অবস্থান গ্রহণ করা।
বাঘেই আরও বলেন, লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডকে তেহরান অ্যামেরিকার নীতির অংশ হিসেবেই দেখে। তার দাবি, আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে হলে লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নও যেকোনো চুক্তির অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
তার এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চল দাহিয়েহ এলাকায় আবারও হামলা শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। এলাকাটি হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও অ্যামেরিকা ও ইরানের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্থায়ী সমঝোতার চেষ্টা চললেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া অ্যামেরিকা-ইসরাইলের সামরিক অভিযানে ইরান ও লেবাননে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে।