ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনকে জড়িয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে কোনো 'ভুল সিদ্ধান্ত’ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
একইসঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, ‘গত জুনের মতো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেন আবারও কোনো ভুল সিদ্ধান্ত না নেন।‘
তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধ নয়, কূটনীতির মাধ্যমেই সংকটের সমাধান সম্ভব।‘
আগের দিন সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিলে অ্যামেরিকা ইরান সরকারের বিরুদ্ধে খুব শক্ত পদক্ষেপ নিবে।
তবে কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে ওই সময় বিস্তারিত জানাননি প্রেসিডেন্ট।
এ প্রসঙ্গে আরাগচি বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এ ধরনের শাস্তি আলোচনার বাইরে।‘
ইতোমধ্যে ১০ জানুয়ারি গ্রেপ্তার হওয়া ২৬ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে ইরানের বিচার বিভাগ।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হলেও এসব অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড প্রযোজ্য নয়।
এমন অবস্থায় ট্রাম্প বুধবার জানান, বিক্ষোভ দমনে ইরানি সরকারের প্রাণঘাতী সহিংসতা কমছে বলে তাকে জানানো হয়েছে।
বর্তমানে বড় আকারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো পরিকল্পনা নেই বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই ইরানের শাসকগোষ্ঠীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ধীরে ধীরে শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জে রূপ নিয়েছে।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, বিক্ষোভের আড়ালে সন্ত্রাসী তৎপরতা ও এর পেছনে ইসরায়েলের সংশ্লিষ্টতা আছে।
অন্যদিকে, অ্যামেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কায় বুধবার রাতে ইরান সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে।
এতে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল, বিলম্বিত বা ঘুরপথে চলতে বাধ্য হয়।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর ইরানের আকাশসীমা আবার স্বাভাবিক হয় বলে জানায় অ্যামেরিকার ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।