কেনিয়াতে বিরল ধরনের ভাইরাস ইবোলার সংক্রমণে সোমবার একজন প্রাণ হারিয়েছেন। এটি কেনিয়ায় প্রথম নিশ্চিত ইবোলা সংক্রমণ এবং প্রথম ইবোলা মৃত্যুর ঘটনা।
মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন কেনিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যাডেন ডুয়ালে। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী কঙ্গো থেকে সংক্রমিত হয়ে এসেছেন বলেও জানান তিনি।
কঙ্গো ও উগান্ডার পর কেনিয়া তৃতীয় দেশ, যেখানে কোনো নাগরিকের ইবোলা সংক্রমণের রেকর্ড পাওয়া গেছে।
ইবোলায় সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুবরণ করা কেনিয়ার ওই নাগরিক গত ৭ বছর ধরে কঙ্গোতে বসবাস করছিলেন। মৃত্যুর আগে এক মাস ধরে অসুখে ভুগছিলেন ভুক্তভোগী।সেখানে একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসাও নিয়েছিলেন তিনি। এ অবস্থায় সড়কপথে কঙ্গো থেকে উগান্ডার রাজধানী কামপালায় ভ্রমণ করেন তিনি। পরে শনিবার আবার আকাশ পথে উগান্ডা থেকে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির বিমানবন্দরে পৌঁছালে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। ওই সময় জ্বর, কাঁপুনি ও ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ থাকলেও, ভুক্তভোগী ইবোলা আক্রান্ত কি না -তা শনাক্ত করতে পারেনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
পরবর্তীতে রোগীর অবস্থা গুরুতর হতে থাকলে এক আত্মীয় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়। চিকিৎসকরা এটিকে ভাইরাল হেমোরেজিক ফিভার হিসেবে বিবেচনা করে নমুনা পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় ইবোলা পজিটিভ শনাক্ত হয় এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার গভীর রাতে ওই ব্যক্তি মারা যান।
কেনিয়ার সাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক প্যাট্রিক আমোথ বলেন, মৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অসুখে ভুগলেও নিয়মিত ওষুধ সেবন করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যার ফলে ইবোলার উপসর্গ থাকলেও সেগুলো সরাসরি বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় শনাক্ত করা যায়নি।
এদিকে ডুয়ালে আরও জানান, তাঁর মরদেহ ইবোলা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বিশেষ নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারণ, ইবোলা আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির শরীর থেকেও এ রোগ ছড়াতে পারে। সেইসঙ্গে, কেনিয়াতে অবস্থানকালে মৃত রোগীর সংস্পর্শে আসা ২৮ জন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে ও বিমানের ২৩ যাত্রী ও চার ক্রুকে খোঁজা হচ্ছে।
ওই সময় চলতি বছর মে মাসে কঙ্গো ও উগান্ডায় ইবোলা মহামারি শুরু হলে, কেনিয়াতে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ডুয়ালে।
ইবোলার বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বান্ডিবুগিও ভাইরাস, যা ইবোলার একটি বিরল ধরন। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসের কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা নেই।