রাজ্য, রাজপ্রসাদ, এমনকি নামের আগে প্রিন্স খেতাব। একে একে সবই হারিয়েছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর।
এ পরিণতির একমাত্র কারণ প্রয়াত অ্যামেরিকান শিশু যৌন নিপীড়ক ও নারী পাচারকারী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে সখ্যতা ও অপকর্মে অংশ নেওয়ার অভিযোগ।
বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না রাজপরিবারের এ সদস্যের। সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে অতীতে এপস্টিন, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েল ও অ্যান্ড্রুর মধ্যকার কয়েকটি মেইল বার্তা।
এবিসি নিউজ জানায়, বুধবার রাতে এপস্টিন সম্পর্কিত হাজার হাজার নথি প্রকাশ করেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্যরা।
এসব নথির মধ্যে এপস্টিনকে পাঠানো অ্যান্ড্রুর বিভিন্ন বার্তা পাওয়া যায়, যেখানে তিনি এপস্টিন ও ম্যাক্সওয়েলকে বিভিন্ন অভিযোগ থেকে নিজের নাম বাদ দিতে অনুরোধ জানান।
ম্যাক্সওয়েল ও এপস্টিনকে ২০১১ সালের মার্চে পাঠানো এক বার্তায় অ্যান্ড্রু বলেন, ‘কী? আমি কিছুই জানি না। আপনি কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন?’
এর উত্তরে এপস্টিন বলেন, ’দুই মিনিট আগে পেয়েছি…আমি আইনজীবীদের একটি চিঠি পাঠাতে বলেছি।’
এর পরিপ্রেক্ষিতে অ্যান্ড্রু বলেন, ‘দয়া করে প্রতিটি বিবৃতি ও আইনি চিঠিতে এ কথা নিশ্চিত করুন যে, আমি কিছু জানতাম না; আমি এ ধরনের কোনো অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত নই। আমি আর নিতে পারছি না।’
অ্যান্ড্রুকে পাঠানো অপর একটি মেইলে রাজপরিবারের এ ব্যক্তির মাধ্যমে ভুক্তভোগী ভার্জিনিয়া জিউফ্রের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে দেখা যায় এপস্টিনকে।
যদিও ২০১৯ সালে বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে জিউফ্রেকে চেনার কথা অস্বীকার করেছিলেন তৎকালীন প্রিন্স অ্যান্ড্রু।
সম্প্রতি প্রকাশিত নথিতে ২০১১ সালের জুলাই মাসে এপস্টিনকে একটি মেইল বার্তায় বলতে দেখা যায়, ‘হ্যাঁ, সে (ভার্জিনিয়া) আমার প্লেনে ছিল, আন্ড্রুর সঙ্গে ছবি তুলেছিল; আমার অন্য কর্মচারীদের যেমন তুলতে হয়।’