প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে ওয়াশিংটন পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বুধবার সন্ধ্যায় জিনপিং অ্যামেরিকা পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে তাকে স্বাগত জানান।
অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্টের এ ধরনের অভ্যর্থনা দেওয়ার ঘটনা ১১ বছর পর এটিই প্রথম। পরে বৃহস্পতিবার পুনরায় হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে অভ্যর্থনা জানান ট্রাম্প।
অন্যদিকে, চলতি বছরে বিশ্বের দুই বড় পরাশক্তির মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠক এটি। তবে এক দশকেরও বেশি সময় পর এবার ওয়াশিংটন সফর করলেন জিনপিং, যা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
৩ দিনের এ বৈঠকে বাণিজ্য, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা, সামরিক যোগাযোগ ও তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, অনেক ইতিবাচক ইঙ্গিত থাকলেও প্রতিযোগী দুই দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সমঝোতা অর্জন এখনই সম্ভব নয়।
বাণিজ্যিক আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা
ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লি ফেংয়ের সঙ্গে আলোচনার পর দুই দেশ ইতোমধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধের সাময়িক বিরতি আরও বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক একসময় ১০০ শতাংশেরও বেশি হওয়ার পর বাণিজ্য সংঘাত নিয়ন্ত্রণে এই যুদ্ধবিরতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
ট্রাম্প-জিনপিংয়ের আলোচনায় কিছু শুল্ক কমানো, মাদক পাচার মোকাবিলা এবং দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ও আসতে পারে বলে জানা গেছে।
চীন ২০০টি বোয়িং বিমান কেনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও এগিয়ে আসবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তাইওয়ান নিয়ে মতপার্থক্য
তবে দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি হলো তাইওয়ান।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। অন্যদিকে তাইওয়ান একটি স্বশাসিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পরিচালনা করে এবং অ্যামেরিকার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলে।
জিনপিং ট্রাম্পের কাছে তাইওয়ানের জন্য অ্যামেরিকার অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি তুলতে পারেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।
এর আগে ট্রাম্প প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র প্যাকেজ স্থগিত রেখে সেটিকে চীনের সঙ্গে আলোচনায় দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
এআই নিয়ে আলোচনা
জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে এআই-এর সম্পর্ক থাকায় অ্যামেরিকা ও চীনের মধ্যে এ প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা তীব্র।
স্টেট সেক্রেটারি মার্কো রুবিও বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে এমন একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরির বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হচ্ছে, যা শীতল যুদ্ধের সময়কার অ্যামেরিকা-সোভিয়েত হটলাইন
এর উদ্দেশ্য হবে এআই ও অন্যান্য প্রযুক্তি নিয়ে উত্তেজনা থেকে তৈরি কোনো পরিস্থিতি যেন বড় ধরনের সংঘাতে পরিণত না হয় তা নিশ্চিত করা।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এআই নিয়ে দুই দেশের তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে এই ক্ষেত্রে বড় ধরনের সহযোগিতার পরিবর্তে সীমিত বা প্রতীকী সমঝোতাই বেশি সম্ভব।
ইরান প্রসঙ্গও আসতে পারে
ট্রাম্প ও জিনপিং ইরান যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা করতে পারেন। ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে চীনের সহযোগিতা চাইতে পারেন ট্রাম্প। তবে এখন পর্যন্ত বেইজিং ইরানকে অ্যামেরিকার দাবিতে রাজি করাতে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেনি।