Skip to main content

চায়না–কানাডা বাণিজ্যে নতুন মোড়: ইভি শুল্ক কমানোর বদলে কৃষিপণ্যে ছাড়

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬ ২০২৬, ১৫:৫১

মার্ক কার্নি(বাঁ পাশে) ও শি জিনপিং। ছবি: রয়টার্স

মার্ক কার্নি(বাঁ পাশে) ও শি জিনপিং। ছবি: রয়টার্স

  • 0

চায়না থেকে আমদানি করা বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক কমাতে রাজি হয়েছে অটোয়া। বিনিময়ে ক্যানাডার কৃষিপণ্যের শুল্কে বড় ধরনের কাঁটছাঁট করবে বেইজিং।

অ্যামেরিকার অবস্থান থেকে সরে এসে চায়নার সঙ্গে বড় ধরনের বাণিজ্য সমঝোতায় পৌঁছেছে কানাডা । চায়না থেকে আমদানি করা বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক কমাতে রাজি হয়েছে অটোয়া।

বিনিময়ে ক্যানাডার কৃষিপণ্যের শুল্কে বড় ধরনের কাঁটছাঁট করবে বেইজিং। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি শুক্রবার এক বক্তব্যে এ কথা জানান।

দুই দিনব্যাপী চায়না সফরে দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর কার্নি জানান, প্রাথমিকভাবে বছরে সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার চায়না ইভি ক্যানাডায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।

আগামী পাঁচ বছরে এই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ৭০হাজারে নেওয়া হবে। এর বিপরীতে, কানাডার প্রধান কৃষিপণ্য ক্যানোলা বীজে চায়নার শুল্ক ৮৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে প্রায় ১৫ শতাংশে নামানো হবে।

কার্নি বলেন, ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চায়নার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও পূর্বানুমানযোগ্য হয়েছে এবং এর বাস্তব ফলও দেখা যাচ্ছে।‘

এর আগে কানাডা অ্যামেরিকার সঙ্গে সমন্বয় করে চায়না থেকে আমদানি করা ইভির ওপর ১০০ শতাংশ এবং স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সময়।

পাল্টা জবাবে চায়না কানাডার ক্যানোলা তেল ও মিলের ওপর ১০০ শতাংশ এবং শূকর মাংস ও সামুদ্রিক খাদ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক বসায়।

গত আগস্টে ক্যানোলা বীজে শুল্ক বাড়িয়ে ৭৫ দশমিক ৮ শতাংশ করা হলে চায়নার বাজার বন্ধ হয়ে যায় কানাডার জন্য।

পরে শুক্রবার কার্নি চায়নার প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে বৈঠক করেন। সেখানে দুই নেতা কয়েক বছর ধরে চলা উত্তেজনার পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

শি জানান, গত অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ায় এক আঞ্চলিক সম্মেলনের ফাঁকে প্রাথমিক বৈঠকের পর থেকেই সহযোগিতা পুনরুদ্ধারের আলোচনা চলছিল।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে “চরম চাপে” রয়েছে উল্লেখ করে কার্নি বলেন, ভবিষ্যতে বৈশ্বিক কাঠামোর বদলে দেশভিত্তিক বা আঞ্চলিক চুক্তির গুরুত্ব বাড়তে পারে। তিনি বলেন, “প্রশ্ন হলো এই পরিবর্তনের জায়গায় কী গড়ে উঠবে, আর সেটি কতটা খণ্ডিত হবে।”

এই নীতিগত পরিবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি।

ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্কে কানাডা ও চায়না দুই দেশের অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কার্নি জানান, বৈশ্বিক বাণিজ্য অস্থিরতার এই সময়ে অ্যামেরিকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প বাজার গড়াই তার সরকারের লক্ষ্য।

তবে এই সমঝোতা নিয়ে কানাডার ভিতরেই বিরোধিতা শুরু হয়েছে।

অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড সতর্ক করে বলেছেন, চায়না কানাডার বাজারে পা রাখার সুযোগ পেল এবং এর খেসারত দিতে হতে পারে কানাডীয় শ্রমিকদের।

তার আশঙ্কা, এই চুক্তি কানাডীয় গাড়ি প্রস্তুতকারকদের অ্যামেরিকার বাজারে প্রবেশের পথ আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

কার্নি অবশ্য দাবি করেন, চায়না ইভির ওপর নির্ধারিত কোটা ক্যানাডার বার্ষিক প্রায় ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন গাড়ি বিক্রির মাত্র ৩ শতাংশের সমান।

তিনি জানান, এর বিনিময়ে আগামী তিন বছরের মধ্যে চায়না ক্যানাডার অটো শিল্পে বিনিয়োগ শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চায়না মনে করছে, ট্রাম্পের চাপের ফলে কানাডার মতো মিত্র দেশগুলো অ্যামেরিকার সঙ্গে কম সমন্বিত পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করতে পারে।

যদিও কার্নি স্পষ্ট করেছেন যে অ্যামেরিকার সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক বহুমাত্রিক ও গভীর। অন্যদিকে চায়নার সঙ্গে মানবাধিকারসহ নানা বিষয়ে মতপার্থক্য থাকায় সহযোগিতার সীমাও নির্ধারিত থাকবে।