কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির তেলসমৃদ্ধ আলবার্টা প্রদেশের ভোটাররা। প্রাথমিক ফলাফলে প্রায় ৭৬ শতাংশ ভোটার কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন। এতে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার প্রচেষ্টা জোরালো হলো।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত অনানুষ্ঠানিক ফলাফল অনুযায়ী, ১৫ লাখের বেশি ভোট গণনার পর প্রায় ২৪ শতাংশ ভোটার বিচ্ছিন্নতার প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। আলবার্টার নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
তবে এই গণভোটে সরাসরি স্বাধীনতার প্রশ্নে ভোট দেননি আলবার্টার বাসিন্দারা। বরং প্রদেশটিকে কানাডা থেকে আলাদা করার লক্ষ্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে ভবিষ্যতে স্বাধীনতা নিয়ে আরেকটি গণভোটের পথ তৈরি হতো।
ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি বলেন, “আলবার্টার বাসিন্দারা স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁরা ঐক্য, একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়া এবং পরস্পরের যত্ন নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন। সর্বোপরি, তাঁরা কানাডাকে বেছে নিয়েছেন।”
কার্নি বলেন, এই ফলাফল কানাডাকে একসঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি বাণিজ্যে বৈচিত্র্য আনা, বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং আলবার্টাকে কেন্দ্র করে কানাডাকে বৈশ্বিক জ্বালানি শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত হবে।
আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথও প্রাথমিক ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, আলবার্টার বাসিন্দারা ঐক্যবদ্ধ কানাডার মধ্যে আরও শক্তিশালী আলবার্টার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
স্বাধীনতার বিরোধী হলেও নিজ দলের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর চাপের মুখে গণভোটের আয়োজন করেছিলেন স্মিথ। তাঁর ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড কনজারভেটিভ পার্টির (ইউসিপি) একাংশ দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরোধিতা করে আসছে।
অন্যদিকে, স্বাধীনতাপন্থীরা ফলাফলকে পরাজয় হিসেবে দেখলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের নেতা কিথ উইলসন বলেন, চূড়ান্ত ফলাফল এখনো আসেনি এবং ভোটের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। তবে তাঁর দাবি, অন্তত এক-চতুর্থাংশ আলবার্টাবাসী মনে করেন, প্রদেশটিকে আরও ভালোভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
কানাডার চতুর্থ বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুতের অধিকারী আলবার্টায় কেন্দ্রীয় সরকারের জ্বালানিনীতি, করব্যবস্থা ও রাজস্ব বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রদেশটিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব জোরালো হয়েছে।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ এবং কানাডাকে আমেরিকার ৫১তম স্টেইটে পরিণত করার হুমকির মধ্যেই গণভোটটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কানাডার জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন কার্নি।