


প্রকাশিত: মে ২২ ২০২৬, ২৩:১৮ হালনাগাদ: মে ২২ ২০২৬, ২৩:২৭

ইউএস ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড।
ইউএস ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তুলসি গ্যাবার্ড। স্বামীর অস্থিমজ্জার ক্যানসার ধরা পড়ার পর তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শুক্রবার দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, 'প্রতিটি কঠিন সময়ে তার শক্তি ও ভালোবাসা আমাকে টিকিয়ে রেখেছে। এত সময়সাপেক্ষ ও কঠিন দায়িত্বে থেকে আমি বিবেকের কাছে সৎ থাকতে পারি না, যখন তাকে এই লড়াই একা মোকাবিলা করতে হবে।'
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, 'গ্যাবার্ড অসাধারণ কাজ করেছেন, আমরা তাকে মিস করব।'
গ্যাবার্ডের পদত্যাগ কার্যকর হবে ৩০ জুন থেকে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রধান উপপরিচালক অ্যারন লুকাস ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন তুলসি গ্যাবার্ড। ২০২৫ সালে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার কয়েক সপ্তাহ পরই তিনি আ্যমেরিকার গোয়েন্দা ব্যবস্থার অন্যতম ক্ষমতাধর পদে নিয়োগ পান।
তবে চলতি বছরে ইরানে আ্যমেরিকার সামরিক অভিযান, কিউবার ওপর চাপ বৃদ্ধি কিংবা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অপসারণের মতো বড় ঘটনাগুলোর সময় তাকে প্রকাশ্যে খুব কমই দেখা গেছে।
গ্যাবার্ড হচ্ছেন ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়তে যাওয়া চতুর্থ মন্ত্রিসভার সদস্য। এর আগে এপ্রিল মাসে শ্রমমন্ত্রী লরি চাভেজ-ডিরেমার পদত্যাগ করেন। চলতি বছর আরও বিদায় নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম ও অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি।
পদত্যাগপত্রে গ্যাবার্ড বলেন, তার স্বামী আব্রাহাম আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, 'গ্যাবার্ড যথার্থভাবেই তার স্বামীর পাশে থাকতে চান, তাকে সুস্থ করে তুলতে চান। তারা একসঙ্গে কঠিন এক লড়াই লড়ছেন। আমার বিশ্বাস, তিনি খুব দ্রুতই আগের চেয়েও ভালো হয়ে উঠবেন।'
সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ জানায়, পররাষ্ট্রনীতিতে গ্যাবার্ড দীর্ঘদিন ধরেই যুদ্ধবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। ফলে ট্রাম্প যখন ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেন, তখন দুই পক্ষের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়।
আ্যমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলার পর তিনি সরাসরি সিদ্ধান্তের সমর্থন না দিয়ে মার্চে কংগ্রেসের শুনানিতে প্রশ্ন এড়িয়ে যান, বিশেষ করে প্রশাসন সম্ভাব্য সংঘাতের পরিণতি সম্পর্কে আগে থেকে জানত কি না—এ বিষয়ে।
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়েও তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ ছিল, হোয়াইট হাউস ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।
গত বছর কংগ্রেসে গ্যাবার্ড বলেছিলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না।
পরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, 'তিনি কী বলেছেন, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমার মনে হয়, তারা অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।'
