তিন মাসের ফ্যামিলি ভিসা দিচ্ছে কুয়েত, আছে নানা চমক

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৬ ২০২৫, ৮:২৫ হালনাগাদ: মার্চ ৪ ২০২৬, ১১:২৯

সংশোধিত নীতিতে ফ্যামিলি ভিজিট ভিসার যোগ্যতাও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। ছবি: গালফ নিউজ

সংশোধিত নীতিতে ফ্যামিলি ভিজিট ভিসার যোগ্যতাও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। ছবি: গালফ নিউজ

  • 0

ভিসার পাশাপাশি ভিসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধও আনা হয়েছে পরিবর্তন।

পর্যটন বৃদ্ধি এবং ভ্রমণ বিধিনিষেধ সহজের লক্ষ্যে তিন মাসের ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা চালুসহ বেশ কয়েকটি ভিসা সংক্রান্ত নিয়ম পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে কুয়েত।

সম্প্রতি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সংস্কারের অংশ হিসেবে কুয়েত সরকারের এই পদক্ষেপ পারিবারিক ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গালফ নিউজ জানিয়েছে, আল সিয়াসাহ সংবাদপত্রের প্রধান সম্পাদক সাংবাদিক আহমেদ আল জারাল্লাহর সাথে সাম্প্রতিক টেলিফোনে কুয়েতের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ ইউসুফ সৌদ আল সাবাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মূল সুবিধা ও পরিবর্তনসমূহ:

প্রাথমিক ভিসা মেয়াদ:শেখ ফাহাদ বলেন, সংশোধিত ভিজিট ভিসায় প্রাথমিকভাবে তিন মাস থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, আবেদনকারীর পছন্দ এবং ভিসা নিয়ম মেনে চলার ওপর নির্ভর করে ছয় মাস এমনকি এক বছরও থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সরকারি নীতিমালা, নিরাপত্তা যাচাই, সম্পর্কের স্বীকৃতি ও ফি-প্রক্রিয়া সহ সব শর্ত পূরণ করা সাপেক্ষে ভিসার মেয়াদ বাড়াতে পারবেন পর্যটকরা।

স্ক্র্যাপেড বাধ্যতামূলক শর্ত: পর্যটকদের ইউনিভার্সিটি ডিগ্রি প্রমাণ ও কুয়েত জাতীয় এয়ারলাইনের ব্যবহারের বাধ্যতামূলক শর্ত তুলে ফেলা হয়েছে। ফলে এখন থেকে পর্যটকরা যে কোনো এয়ারলাইন ব্যবহার করতে পারবেন।

সম্পর্কের পরিসর বৃদ্ধি: সংশোধিত নীতিতে ফ্যামিলি ভিজিট ভিসার যোগ্যতাও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। কুয়েতের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগে শুধুমাত্র স্বামী/স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য ভিসা আবেদন করা গেলেও এখন ভাই/বোন, দাদী/দাদা, চাচা/চাচি, ফুপু/ফুপি, ভাইপো/ভাইঝি, ভাগ্নে/ভাগ্নির জন্যও ভিসার আবেদন করা যাবে।

নিরাপত্তা নিষেধাজ্ঞা প্রক্রিয়া:শেখ ফাহাদ জোর দিয়ে বলেছেন, নিরাপত্তা বিধিনিষেধযুক্ত ভ্রমণকারীদের তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হবে এবং আশা করা হচ্ছে যে তারা আন্তর্জাতিক নিয়মের সাথে কুয়েতের আইন সামঞ্জস্যপূর্ণ করে স্বাধীনভাবে এই বিষয়গুলো সমাধান করবেন। যার আওতায় আবেদনকারী নিরাপত্তাজনিত কারণে ফ্ল্যাগড হলে মাইগ্রেশন সিস্টেম থেকেই তৎক্ষণাৎ জানানো হবে। পরবর্তীতে নিজ দায়িত্বে আইনি বা কূটনৈতিক মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করতে হবে।

ই‑ভিসার মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত হয়েছে। ফলে ভিসার আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে করা যাবে। দূতাবাস সাক্ষাৎ করার কোনো প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়েছে গালফ নিউজ।

কুয়েত সরকার এখন এসব ভিসার ফি কাঠামো পর্যালোচনা করছে। ভিসার ফি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কেবিনেট থেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

ভিসা সংক্রান্ত এসব পরিবর্তনগুলো এমন সময়ে এসেছে যখন কুয়েত ‘ভিশন ২০৩৫’ পরিকল্পনার আওতায় স্বল্পমেয়াদি পর্যটন এবং অভ্যন্তরীণ সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে। যার ফলে দেশটির পর্যটন, বাণিজ্য ও পারিবারিক ভিসা আবেদন সহজ করা হয়েছে।

যার ধারাবাহিকতায় এ সপ্তাহ থেকে কার্যকর হওয়া এসব সুবিধাগুলো মূলত 'কুয়েত ভিসা' প্ল্যাটফর্মের বৃহত্তর সংস্কারের অংশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কুয়েত সরকার দেশটিকে পর্যটন ও বাণিজ্যের আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে স্থাপন করতে চায়।