বিদ্যুৎ ব্যবস্থা উন্নয়নে বাংলাদেশকে ২০০ ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবির লোগো। ছবি: বাসস
- 0

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩ ২০২৬, ১৬:১৫

ঢাকার আশপাশের শিল্প ও দ্রুত নগরায়নশীল এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
এডিবির অর্থায়নে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া ‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) ঢাকার আশপাশের ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পিবিএস) বিদ্যুৎ বিতরণ অবকাঠামো উন্নত করবে। এসব এলাকায় দ্রুত শিল্পায়ন ও নগরায়ন ঘটছে।
এডিবি বলছে, প্রকল্পটির মাধ্যমে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকা সাবস্টেশন, পুরোনো অবকাঠামো, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণে সিস্টেম লস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আরো সক্ষম করা হবে।
এডিবির বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং বলেন, বাংলাদেশ আরো সমৃদ্ধ, সহনশীল ও বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে আধুনিক বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, উন্নত প্রযুক্তি, শক্তিশালী অবকাঠামো ও দুর্যোগ সহনশীলতা বাড়ানোর মাধ্যমে প্রকল্পটি ঢাকার আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি করিডোরে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের চাহিদা মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলবে।
প্রকল্পের আওতায় ৫২টি সাবস্টেশনে নতুন করে মোট ১ হাজার ১৫০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার (এমভিএ) ট্রান্সফরমার সক্ষমতা যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ১২টি বিদ্যমান সাবস্টেশনের সক্ষমতা ১১৫ এমভিএ বাড়ানো হবে।
এছাড়া ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটারের বেশি ওভারহেড ও ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন নির্মাণ বা উন্নয়ন করা হবে। নেটওয়ার্কের নির্ভরযোগ্যতা, দক্ষতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর স্থাপন করা হবে।
বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার পরিচালন সক্ষমতা আধুনিকায়নে নদী পারাপারের জন্য সঞ্চালন কাঠামো ও সুইচিং স্টেশন নির্মাণ করা হবে। দ্রুত ত্রুটি শনাক্ত ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপনে ৯০০টি ফল্ট লোকেটর সেট স্থাপন করা হবে।
বাংলাদেশ ২০২২ সালে সার্বজনীন বিদ্যুতায়ন অর্জন করলেও দ্রুত নগরায়ন ও শিল্পায়নের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। এতে বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কের ওপর চাপও বাড়ছে। নতুন প্রকল্পটি বাড়তি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহনশীল ও কম কার্বন নিঃসরণভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়তা করবে।
প্রকল্পটির জন্য এডিবির ১৪৬ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলারের বিশেষ দুর্যোগ সহনশীলতা অর্থায়ন রয়েছে। এর আওতায় পরিবেশবান্ধব গ্যাস-ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন অভিযোজন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদ্যুৎ বিতরণে দক্ষতা বাড়ানো ও কারিগরি ক্ষতি কমানোর মাধ্যমে বছরে প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার ৭৫১ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় বিআরইবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও বাড়ানো হবে। এ জন্য ডিজিটাল সিস্টেম একীভূতকরণ, সাইবার নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহনশীল পরিচালনা, পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও স্থায়িত্ব বাড়ানোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে নারী ও মেয়েদের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মপরিবেশ উন্নয়নের পদক্ষেপও থাকবে।
এডিবির ঋণের পাশাপাশি প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার ১০৭ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলার এবং বিআরইবি ১৪১ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করবে। এছাড়া এডিবি পরিচালিত কোরিয়া সরকারের ‘ই-এশিয়া অ্যান্ড নলেজ পার্টনারশিপ ফান্ড’ থেকে ১ মিলিয়ন ডলারের কারিগরি সহায়তা অনুদান দেওয়া হবে। এই অর্থ প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, আর্থিক স্থায়িত্ব পরিকল্পনা এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হবে।

