এবার প্রয়াত যৌন অপরাধী ও নারী পাচারকারী জেফ্রি এপস্টিন কর্তৃক নির্মম নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী সারাহ কেলেন।
হাউস ওভারসাইট কমিটিতে বৃহস্পতিবার এক রুদ্ধদার বৈঠকে কেলেন প্রয়াত এ যৌন অপরাধীর বিরুদ্ধে যৌন ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, 'এপস্টিন আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতেন, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন, প্রভাবিত ও মানসিক বিভ্রান্তিতে ফেলতেন। এক পর্যায়ে আমি বুঝতে পারতাম না যে কোন চিন্তাগুলো আমার আর কোনগুলো তার প্রভাব থেকে এসেছে।‘
কেলেনের অভিযোগ সম্পর্কিত একটি সূচনা বক্তব্য হাতে পেয়েছে এবিসি নিউজ।
বিবৃতির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২১ বছর বয়সে হাওয়াইয়ের একটি হোটেলে কর্মরত অবস্থায় এক সহকর্মীর মাধ্যমে এপস্টিনের সহকারী হিসেবে কাজে যোগ দেন কেলেন। ওই সময় বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়া ও চার্চ থেকে বহিষ্কার হওয়ায় তাকে নিজের লক্ষ্যবস্তু করে নেন এপস্টিন। ফলে কেলেনের স্থান হয় এপস্টিন নিয়ন্ত্রিত মাঝসমুদ্রে একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপে। সেখানে নিয়মিত জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কে বাধ্য করা হয় তাকে।
কেলেন জানান, প্রতি সপ্তাহে এপস্টিনের শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো তাকে। কোনো সময় গলা চেপে শ্বাসরোধ অবস্থায়ও ধর্ষণ করতেন এপস্টিন।
তিনি বলেন, ‘আমাকে ধর্ষণের শিকার হওয়ার জন্য বেতন দেওয়া হত। প্রতিদিন, প্রতি ঘণ্টায় তাকে সাড়া দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হত।‘
এর আগে এপস্টিনের সহকারী হিসেবে কেলেনের ওপর তদন্ত চললেও, নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করার কারণে তাকে কখনও অভিযুক্ত করা হয়নি।
হাউস ওভার কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার জানিয়েছেন, আমার বিশ্বাস কেলেন নিজেই একজন ভুক্তভোগী। একইসঙ্গে কেলেনের সাক্ষাৎকারকে ফলপ্রসূ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার বক্তব্য থেকে এপস্টিনের অপকর্মে জড়িত আরও তিনজন সন্দেহভাজনের নামও জানা গেছে।‘
বর্তমানে ৪২ বছর বয়সি কেলেন, যার বিরুদ্ধে মায়ামিতে ২০০৭ সালে ফেডারেল প্রসিউকিউটরদের সঙ্গে এপস্টিনের বিচার না করতে সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগটিতে সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রকারী চারজন নারীর মধ্যে কেলেন ছিলেন একজন।
এ প্রসঙ্গে কেলেন তার বিবৃতিতে জানান, অভিযোগে তার নাম থাকা সম্পর্কে তিনি দীর্ঘদিন অবগত ছিলেন না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও তার কাছ থেকে কোনো বক্তব্য নেননি।
তিনি অভিযোগ করেন, ‘চুক্তিটি স্বাক্ষরিত ও জনসমক্ষে না আসা পর্যন্ত আমি জানতামই না যে, ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে আমার নাম ছিল।
‘ফেডারেল সরকার আমার নিজের নির্যাতনকারীর সাথে একটি গোপন চুক্তির মাধ্যমে আমাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেছে, অথচ একবারও আমার সাথে কথা বলেনি।‘