আন্তর্জাতিক অস্থিরতার এই সময়ে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো সংকট চায় না বিশ্ব- এমন মন্তব্য করেছেন তাইওয়ানের প্রধান বিরোধী দল কুওমিনতাং কেএমটির চেয়ারপারসন চেং লি-উন।
চীন সফরের আগে বুধবার তিনি বলেন, তাঁর এই সফরের লক্ষ্য শান্তি ও পুনর্মিলন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আগামী মঙ্গলবার থেকে ছয় দিনের জন্য চীন সফরে যাচ্ছেন চেং লি-উন। সফরটি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ সময়ে তিনি বেইজিং, সাংহাই ও জিয়াংসু প্রদেশ সফর করবেন।
তাইপেতে দলীয় সাপ্তাহিক বৈঠকে চেং বলেন, তাইওয়ানের জনগণ চান না যে তাদের দেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হোক।
তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তি ও পুনর্মিলনের পক্ষে কাজ করছি—এতে দেশের ভেতরে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা যেমন রয়েছে, তেমনি তাইওয়ান প্রণালীতেও শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি রয়েছে।‘
বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অস্থির উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন সময়ে তাইওয়ান প্রণালীতে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হোক, তা কেউই চায় না।
এদিকে, তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে আসা চীন সাম্প্রতিক সময়ে দ্বীপটির ওপর সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে।
বেইজিং তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে আখ্যা দিলেও তিনি বলেছেন, তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সেখানকার জনগণই।
চেং-এর সফরের প্রেক্ষাপটে তাইওয়ানে ৪০ বিলিয়ন ডলারের একটি অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে অচলাবস্থা চলছে। বিরোধী দল-নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্ট অ্যামেরিকা-সমর্থিত এই প্রস্তাব আটকে রেখেছে। কেএমটি জানিয়েছে, তারা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে থাকলেও অন্ধভাবে অনুমোদন দিতে রাজি নয়।
তাইওয়ানের মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল এ সপ্তাহে বলেছে, কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের কারণে চীনের তাইওয়ানকে অধিগ্রহণের নীতি পরিবর্তন হবে না।
অন্যদিকে, বেইজিংয়ে চীনের তাইওয়ানবিষয়ক কার্যালয়ের মুখপাত্র ঝাং হান বলেন, চেং-এর সফর চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও কেএমটির শান্তির প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
তিনি আরও দাবি করেন, ‘শান্তিপূর্ণ পুনরেকত্রীকরণ’ তাইওয়ানের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য বড় সুযোগ সৃষ্টি করবে।
তবে বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতির অধীনে চীনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে তাইওয়ানের জনগণের সমর্থন খুবই কম।
চীন কখনোই শক্তি প্রয়োগ করে তাইওয়ানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেনি।