Skip to main content

বাতিল হতে পারে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ট্রাম্পের আদেশ

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: এপ্রিল ১ ২০২৬, ২১:৪৮ হালনাগাদ: এপ্রিল ২ ২০২৬, ৬:১১

বাতিল হতে পারে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ট্রাম্পের আদেশ
  • 0

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগটি শেষ পর্যন্ত বাতিল হতে পারে। বুধবার আদালতে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নজিরবিহীন উপস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট এই ইঙ্গিত দিয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে রক্ষণশীল ও উদারপন্থী--উভয় শিবিরের বিচারপতিরাই ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী আদেশের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আদেশটিতে বলা হয়েছে, যারা অবৈধভাবে বা সাময়িকভাবে অ্যামেরিকায় অবস্থান করছেন, তাদের সন্তানরা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবে না।

দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই শুনানিতে ট্রাম্প নিজে উপস্থিত ছিলেন--যা কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিরল ঘটনা। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি, কমার্স সেক্রেটারি হাওয়ার্ড লাটনিক এবং অতিথি হিসেবে অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো।

শুনানিতে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করার পর ট্রাম্প তার প্রশাসনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনকারী সলিসিটর জেনারেল ডি. জনাথন সাওয়ারের বক্তব্য শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর আদালত ত্যাগ করেন।

হোয়াইট হাউযে ফিরে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি খুবই সহজ। কিন্তু আদালতে কেউই যেন পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারছিল না কী হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ডেমোক্র্যাটদের মনোনীত বিচারপতিরা রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট, আর রিপাবলিকানদের মনোনীত বিচারপতিরা নিজেদের স্বাধীনতা দেখাতে গিয়ে অনেক সময় তার বিরুদ্ধেও অবস্থান নেন।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ১৪তম সংশোধনী মূলত গৃহযুদ্ধের পর দাসপ্রথা থেকে মুক্তিপ্রাপ্তদের সন্তানদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য করা হয়েছিল—বিদেশি ধনী ব্যক্তিদের সন্তানদের জন্য নয়। তিনি সামাজিক মাধ্যমেও লেখেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার মতো “বোকামি” শুধু অ্যামেরিকাই করছে—যদিও বাস্তবে আমেরিকা মহাদেশের বহু দেশেই এই নীতি চালু রয়েছে।

শুনানিতে বিচারপতিরা প্রশাসনের যুক্তিকে কঠোরভাবে যাচাই করেন। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, বিশ্ব বদলালেও সংবিধান তো একই রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, আধুনিক পরিস্থিতি দেখিয়ে সংবিধানের ব্যাখ্যা বদলানো সহজ নয়।

বিচারপতি এলিনা কাগান বলেন, ‘জুরিসডিকশন’ শব্দটির এই ব্যাখ্যা সংবিধানের লেখা বা ইতিহাস থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না।

বিচারপতি কেটাঞ্জি ব্রাউন জ্যাকসন বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন--কীভাবে নির্ধারণ করা হবে নবজাতক নাগরিক কি না। তিনি জানতে চান, এই সিদ্ধান্ত কি জন্মের সময়ই নেওয়া হবে, নাকি পরে প্রমাণের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।

একই সঙ্গে বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস কিছুটা প্রশাসনের পক্ষে প্রশ্ন তোলেন, ১৪তম সংশোধনী প্রণয়নের সময় অভিবাসন বিষয়টি কতটা বিবেচনায় ছিল।

এছাড়া বিচারপতি নিল গরসুচ ও ব্রেট কাভানো-ও প্রশাসনের যুক্তি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। কাভানো ইঙ্গিত দেন, আদালত চাইলে আগের দৃষ্টান্ত বজায় রেখে সংক্ষিপ্ত রায় দিতে পারে।

প্রশাসনের পক্ষে সাওয়ার যুক্তি দেন, অধিকাংশ আধুনিক দেশ স্বয়ংক্রিয় জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেয় না এবং এই নীতি অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করে। তার মতে, এটি নাগরিকত্বের মূল্য কমিয়ে দেয় এবং বার্থ টুরিযমে উৎসাহ দেয়।

অন্যদিকে, অ্যামেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের আইনজীবী সেসিলিয়া ওয়াং বলেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব একটি সুস্পষ্ট সাংবিধানিক নীতি, যা টেক্সট ও ইতিহাস—উভয় দিক থেকেই প্রতিষ্ঠিত। তিনি সতর্ক করেন, এই আদেশ কার্যকর হলে হাজার হাজার নবজাতক নাগরিকত্ব হারাতে পারে এবং মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষের নাগরিকত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

১৮৬৮ সালে গৃহীত ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, অ্যামেরিকায় জন্মগ্রহণকারী প্রায় সবাই নাগরিক—শুধু কূটনীতিক বা দখলদার বাহিনীর সদস্যদের সন্তান ব্যতীত। এতে বলা হয়েছে, যে কেউ অ্যামেরিকায় জন্মগ্রহণ বা নাগরিকত্ব গ্রহণ করবে, সে অ্যামেরিকা ও সংশ্লিষ্ট স্টেইটের নাগরিক।

নিম্ন আদালতগুলো ইতোমধ্যে ট্রাম্পের এই নীতি স্থগিত করেছে। তারা ১৮৯৮ সালের ‘ইউনাইটেড স্টেইটস বনাম ওয়ং কিম আর্ক’ মামলার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেছে, এই আদেশ সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ২৫০ হাজার শিশুর ওপর এই নীতির প্রভাব পড়তে পারে—যাদের মধ্যে অবৈধ অভিবাসী ছাড়াও শিক্ষার্থী, ভিসাধারী এবং গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের সন্তানরাও রয়েছে।


শুনানিতে বিচারপতিদের প্রশ্ন ও মন্তব্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে রায় দিতে পারে।

এই মামলাকে ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতার একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে, এবং চূড়ান্ত রায় গ্রীষ্মের শুরুর দিকে আসতে পারে—যা অ্যামেরিকার অভিবাসন নীতি ও সংবিধানের ব্যাখ্যায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।