সময়টা ২০১৮ সালের ১৩ মে। সারা বিশ্বের মতো দেশে উদযাপন হচ্ছিল আন্তর্জাতিক মা দিবস।
ফ্লোরিডার বাসিন্দা জোলিন কুমিংসের কথা ছিল কর্মস্থল থেকে বের হয়ে সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরবেন, কিন্তু সেদিন কিছুতেই খোঁজ মেলেনি ৩৪ বছর বয়সী ওই নারীর।
কিছুদিন পর একটি হোম ডিপোর পার্কিং লটে কুমিংসের গাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কুমিংসের কর্মস্থল হেয়ার সেলুন প্রতিষ্ঠান ট্যাংলেস থেকে পার্কিং লট অভিমুখে আসা গাড়ি থেকে নামছেন অচেনা এক ব্যক্তি।
সম্প্রতি আইউইটনেস নিউজের ইনভেস্টিগেটিভ শো ২০/২০ এর সাক্ষাৎকারে নাসাউ কাউন্টি শেরিফের কর্মকর্তা ও এ ঘটনার তদন্তকারী ওয়াইনে হেরিংটন জানান, রহস্য উদঘাটনে নিখোঁজ নারীর কর্মস্থলে হাজির হন তদন্ত কর্মকর্তারা। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, সর্বশেষ কুমিংসের সঙ্গে দেখা হয় স্যালুনে তার সহকর্মী জেনিফার সাইবার্টের, কিন্তু পুলিশ আসার খবর পেয়েই কর্মস্থল ত্যাগ করেন সাইবার্ট। এতে সন্দেহের তীর ঘনীভূত হয় সাইবার্টের দিকে।
অন্যদিকে কুমিংসের সেলুনেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায় ফরেনসিক বিভাগ।
বিভাগটি জানায়, সেলুনের মাটিতে বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ পাওয়া যায়। এ থেকে ধারণা করা হয়, এখানে একটি হত্যাকাণ্ড হয়েছে।
পরে কুমিংস হত্যায় সন্দেহভাজন হিসেবে সাইবার্টকে গ্রেপ্তার করেন কর্মকর্তারা।
এক অপরাধী, ১৮টি নাম
গ্রেপ্তার হওয়া সাইবার্ট জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সহকর্মী কুমিংসকে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে নেন।
প্রসিকিউশন জানায়, কুমিংসকে সেলুনে হত্যা করে শরীর টুকরো টুকরো করে ফেলেন সাইবার্ট।
এ হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে অপরাধীর রহস্যময় জীবনের গল্প।
একপর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তারা জানতে পারেন সবার কাছে সাইবার্ট নামে পরিচিত ওই নারীর আসল নাম কিম্বারলি কেসলার।
গত দুই দশকে ৩০টি শহরে ১৮টি ভুয়া নাম, পরিচয় ব্যবহার করে বসবাস করেছেন কেসলার।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা নামটি ছিল সাইবার্ট, যা হত্যাকারী ১৩ বছর বয়সে জার্মানিতে মারা যাওয়া কিশোরীর নাম থেকে চুরি করেছিলেন।