লেবাননে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ইযরায়েলি বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন দেশটির অভিজ্ঞ সাংবাদিক আমাল খালিল। বুধবার দক্ষিণাঞ্চলীয় আল-তায়রি গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। লেবানন সরকারের দাবি, সাংবাদিক জেনেও তাদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
লেবাননের সংবাদপত্র 'আল-আখবার' এর সাংবাদিক আমাল খালিল এবং আলোকচিত্রী জয়নাব ফারাজ পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ইযরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন। তবে হামলার পর আহত আলোকচিত্রী জয়নাব ফারাজকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন ৪৩ বছর বয়সী আমাল খলিল। এই হামলার ফলে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই বুধবার একদিনে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এই ঘটনাকে 'সুস্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে বর্ণনা করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে লেবানন সরকার আন্তর্জাতিক আদালত এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ব সংস্থাগুলোর দ্বারস্থ হবে।
তবে ইযরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী- আই ডি এফ দাবি করেছে, তারা হিযবুল্লাহর ব্যবহৃত দুটি গাড়িকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল এবং কোনো সাংবাদিককে উদ্দেশ্যমূলকভাবে টার্গেট করা হয়নি।
এদিকে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর লেবাননের সাংবাদিকরা ও আন্তর্জাতিক প্রেস ফ্রিডম সংস্থাগুলো তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ইউনিয়ন অফ জার্নালিস্টস ইন লেবাননের প্রধান এলসি মোফাররেজ অভিযোগ করেন, 'টার্গেটেড কিলিং' বা পরিকল্পিত হত্যার উদ্দেশ্যে ইযরায়েল এই হামলা চালিয়েছে।
এই নৃশংসতার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বৈরুতের মার্টিয়ার্স স্কয়ারে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শত শত গণমাধ্যমকর্মী। সেখানে সহকর্মীরা আমাল খালিলের অকুতোভয় সাংবাদিকতা ও মানবিক গল্পগুলো স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। আমাল খালিলকে ‘কুইন অফ সাউথ’ বলে সম্বোধন করেন সাংবাদিকরা।
অপরদিকে হিযবুল্লাহর আইনপ্রণেতা হাসান ফজলুল্লাহ বৈরুতে এক সংবাদ সম্মেলনে ইযরায়েলের এই হামলাকে যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইযরায়েল যদি একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যায়, তবে প্রতিরোধ যোদ্ধারা চুপ করে থাকবে না। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে অ্যামেরিকা ও লেবাননের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।