হিজবুল্লাহর ওপর অব্যাহত ইসরায়েলি হামলায় ভেস্তে যেতে পারে যুদ্ধবিরতি

টিবিএন ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১০ ২০২৬, ১৪:২৬
- 0
অ্যামেরিকা–ইরান যুদ্ধবিরতির তিন দিন পরও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নতুন করে চাপে পড়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী শুক্রবার ভোরে জানায়, তারা ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে।
অ্যামেরিকা–ইরান যুদ্ধবিরতির তিন দিন পরও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নতুন করে চাপে পড়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী শুক্রবার ভোরে জানায়, তারা ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে।
এই হামলা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু এবং অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প–এর মধ্যে অবস্থানগত পার্থক্যও সামনে এনেছে। ট্রাম্প যেখানে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী, সেখানে নেতানিয়াহু লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় না আনা হলে পাকিস্তানে নির্ধারিত শান্তি আলোচনায় ইরান অংশ নেবে না।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে লেবাননে সামরিক অভিযান কমানোর আহ্বান জানান। এর পর নেতানিয়াহু লেবানন সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরুর কথা বললেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি আবার হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, “লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই।”
লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলের হামলায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। ইউরোপিয়ান নেতারা এই হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন, এতে শান্তি প্রচেষ্টা ভেস্তে যেতে পারে। একই সঙ্গে তারা লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা নানা কারণে জটিল হয়ে উঠতে পারে। লেবানন সরকার সরাসরি হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণ করে না, আর হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণে অনীহা দেখিয়ে আসছে। নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত অভিযান বন্ধ হবে না।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শনিবার শুরু হতে যাওয়া অ্যামেরিকা–ইরান বৈঠক নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কার্যত অচল হয়ে রয়েছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তেলের দাম কিছুটা কমলেও নিরাপত্তা শঙ্কায় এখনো জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদে বলেন, এই প্রণালি সব দেশের জন্য উন্মুক্ত, তবে মাইনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে জাহাজগুলোকে ইরানি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হচ্ছে।
তবে ট্রাম্প এই পরিস্থিতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে তেল চলাচল নিশ্চিত করতে ইরান ব্যর্থ হচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেছেন, এই যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হবে। অবকাঠামো ক্ষতি, সরবরাহ বিঘ্ন ও আস্থার সংকট বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতে ইরানে ১,৭০০–এর বেশি বেসামরিক নিহত, লেবাননে ১,৫০০–এর বেশি, উপসাগরীয় অঞ্চলে অন্তত ৩২ জন, ইসরায়েলে ২০ জন এবং অ্যামেরিকার ১৩ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।
