ইরান ও অ্যামেরিকার যুদ্ধবিরতির ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লেবাননে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বোমা হামলায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল। একইসঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, লেবাননের বিভিন্ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০০ জন।
ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে চালানো এই হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটিসহ বিভিন্ন মানবিক সংস্থা।
এদিকে হামলার ব্যাখ্যা দিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘অ্যামেরিকা ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত ছিল না।‘
তিনি জানান, হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে প্রয়োজন অনুযায়ী হামলা চালানো অব্যাহত থাকবে।
নেতানিয়াহুর এ বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন অ্যামেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
ভ্যান্সের ভাষ্য, লেবাননকে যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কখনো সম্মত হয়নি।
তিনি এটিকে একটি ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে যুদ্ধবিরতির জন্য মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে।
সাবেক অ্যামেরিকান কূটনীতিক রবার্ট ম্যালি বলেন, পাকিস্তানের বক্তব্যই বিশ্বাসযোগ্য এবং অ্যামেরিকার অবস্থান এ ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ।
তার মতে, এটি অ্যামেরিকার অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।
ফ্রান্স ও ব্রিটেনও ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করেছে এবং সতর্ক করেছে যে, লেবাননকে যুদ্ধবিরতির বাইরে রাখা হলে পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে আলোচনার কোনো অর্থ থাকবে না। ইরান লেবাননের জনগণের পাশে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।