ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানি দামের ধাক্কায় অ্যামেরিকায় মূল্যস্ফীতি আবারও ঊর্ধ্বমুখী। মার্চ মাসে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৩ শতাংশে, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
অ্যামেরিকার ব্যুরো অব লেইবার স্ট্যাটেস্টিক্স প্রকাশিত কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বা সিপিআই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মার্চে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি মাসভিত্তিক ০.৯ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২২ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।
জ্বালানি খাতই এই বৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি। মার্চে জ্বালানি সূচক প্রায় ১১ শতাংশ বেড়েছে, যার মধ্যে গ্যাসোলিনের দাম একাই ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানির দামও ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক সময় ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা যুদ্ধের আগে তুলনায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি ছিল। বর্তমানে তা কিছুটা কমে প্রায় ৯৫ ডলারে এলেও এখনো আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রয়েছে।
এর প্রভাব সরাসরি ভোক্তাদের ওপর পড়েছে। অ্যামেরিকায় গ্যাসোলিনের গড় দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে গ্যালনপ্রতি ৪.১৫ ডলার, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। পরিবহন, বিমান ও খাদ্য সরবরাহ খাতেও অতিরিক্ত চার্জ যুক্ত হয়েছে।
এদিকে, এয়ারফেয়ার বা বিমান ভাড়াও মার্চে ২.৭ শতাংশ বেড়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। তবে খাদ্যপণ্যের দাম মার্চে সামান্য কমলেও, বিশ্লেষকরা বলছেন—জ্বালানি ও সার সংকটের কারণে সামনে খাদ্যের দামও বাড়তে পারে।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা বাজারে কিছুটা স্বস্তি আনলেও, মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ ইতোমধ্যে সুদের হার কমানোর প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে এবং নতুন করে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না।
নীতিনির্ধারকদের প্রধান উদ্বেগ হলো— জ্বালানি খাতের এই মূল্যবৃদ্ধি অন্য খাতে ছড়িয়ে পড়লে মূল্যস্ফীতি আরও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ শুধু ভূরাজনৈতিক সংকট নয়— এটি এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ফেডের জন্য সুদের হার কমানো কঠিন হয়ে পড়বে,যা আবার প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে চাপ তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধের প্রভাব এখন সরাসরি ভোক্তার পকেটে পড়ছে এবং সামনে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।