হংকংয়ে গত বছর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরকারি সংস্থাগুলোর তদারকিতে গাফিলতি পাওয়ার পর ক্ষমা চেয়েছেন শহরটির প্রধান নির্বাহী জন লি। ওই ঘটনায় রাজনৈতিক দায় নিয়ে বুধবার পদত্যাগ করেছেন আবাসনবিষয়ক সচিব উইনি হো।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জন লি বলেন, আবাসনবিষয়ক সচিব হিসেবে উইনি হোর এ ঘটনার রাজনৈতিক দায় নেওয়া উচিত। তবে তদন্তে তার ব্যক্তিগত কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এপি নিউজ জানায়, এর আগে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে জন লিসহ সরকারের আটজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাথা নত করে ক্ষমা চান।
গত বছরের নভেম্বরে হংকংয়ের তাই পো এলাকার ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক কমপ্লেক্সের সাতটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ১৬৮ জন নিহত হন। বাস্তুচ্যুত হন হাজারো বাসিন্দা। আগুন লাগার সময় ভবনগুলোতে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারকাজ চলছিল। কয়েক দশকের ভিতর এটি ছিল হংকংয়ে সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা।
একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণকাজ তদারকিতে আবাসন ব্যুরোর স্বতন্ত্র পরিদর্শন ইউনিট দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এ ছাড়া ভবন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস বিভাগ ও শ্রম বিভাগের তদারকিতেও ঘাটতি ছিল।
সরকারি চারটি সংস্থার কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিন মাসের তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন জন লি। দরপত্রে কারসাজিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাবও দিয়েছেন কর্মকর্তারা।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগুনের সূত্রপাতের সম্ভাব্য কারণ ছিল জ্বলন্ত সিগারেট। ওয়াং চিয়ং হাউসের প্রথম তলায় দুটি অ্যাপার্টমেন্টের মাঝখানে থাকা সমতল ছাদে আগুনের সূত্রপাত হয়। নির্মাণকর্মীদের কাজের জায়গায়, এমনকি ভবনের চারপাশে স্থাপিত ভারার ওপরও ধূমপানের প্রমাণ পেয়েছে কমিটি। ঘটনাস্থলে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ ও আংশিক পুড়ে যাওয়া কার্ডবোর্ডের বাক্সও পাওয়া যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অগ্নিনিরোধক নয় এমন ফোম বোর্ড, ভারার জাল ও ত্রিপল আগুন ছড়িয়ে পড়তে ভূমিকা রেখেছিল।
এছাড়া তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সংস্কারকাজের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উইল পাওয়ার আর্কিটেক্টস কোম্পানি এবং প্রধান ঠিকাদার প্রেস্টিজ কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির বিরুদ্ধে নিরাপত্তাব্যবস্থায় আপস করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত এবং প্রাণহানির জন্য প্রতিষ্ঠান দুটি প্রধানত দায়ী।
এ ছাড়া কয়েকটি নিবন্ধিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ভবন নির্মাণ পেশাজীবী বাস্তবে উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ না করেই অর্থের বিনিময়ে নিজেদের নাম ব্যবহার করে বিধিবদ্ধ নথিপত্রে অনুমোদন দিয়েছিলেন বলে প্রমাণ পেয়েছে কমিটি।