ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলের কাছে সমুদ্রে সোমবার ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এ ঘটনায় দেশটিতে ৩২ জন নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
একইসঙ্গে ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট প্রায় এক মিটার উচ্চতার সুনামির ঢেউ উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানলে অতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম এপি নিউজ জানায়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের জেনারেল সান্তোস শহরে। সেখানে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে এবং বহু স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরটিতে এখনো অন্তত ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারীরা ধসে পড়া সুপারমার্কেট, গুদামঘর ও অন্যান্য ভবনে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সারাঙ্গানি প্রদেশের গ্লান এলাকায় ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট ভূমিধসে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ভবন ধস ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
ফিলিপাইনের আগ্নেয়গিরি ও ভূকম্পবিদ্যা ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, চলতি বছরে দেশটিতে এটিই ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলবর্তী সমুদ্র এলাকা। এটি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৩ কিলোমিটার গভীরে এবং সারাঙ্গানি প্রদেশের মাসিম শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে আঘাত হানে।
ভূমিকম্পের পর জেনারেল সান্তোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং অন্তত ১৭টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে।
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থাগুলোকে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে বলেছেন।
এদিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টা পর সুনামির বড় ধরনের ঝুঁকি কেটে গেছে। পরে ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষও সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করে।
সুনামির ঢেউ ইন্দোনেশিয়া, পালাউ এবং জাপানের কিছু উপকূলীয় এলাকাতেও পৌঁছায়। তবে সেখানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।