


প্রকাশিত: অক্টোবর ২৬ ২০২৬, ১৫:২৯ হালনাগাদ: অক্টোবর ২৬ ২০২৬, ১৬:১০

সিনেটের প্রতিনিধিত্বকারী ইউএস ক্যাপিটল ভবেনের একাংশের চিত্র। ছবি: রয়টার্স
মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে বাকি আর মাত্র ৮ দিন। এর মধ্য দিয়ে হতে যাচ্ছে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেনেটেটিভস ও উচ্চকক্ষ সেনেটে আইনপ্রণেতাদের রদবদল। বিশেষ করে সেনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতাই নির্ধারণ করবে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শেষ ২ বছরের মেয়াদে আমেরিকার নীতি নির্ধারণী ক্ষমতা থাকবে কার হাতে।
বর্তমানে সেনেটে ৫৩টি আসন সংখ্যা নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আসন সংখ্যা ৪৭টি। এমন বাস্তবতায়, সেনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে নির্বাচনী দৌড়ে থাকা ৩৫টি সেনেট আসনে অন্তত ৪টি আসন বাড়াতে হবে ডেমোক্র্যাটদের।
শেষ মুহূর্তে বদলে দিতে পারে সেনেটের ফলাফল এমন ৭টি স্টেইটের সর্বশেষ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ।
মিশিগান
ডেমোক্র্যটিক পার্টির প্রচারণায় গত শনিবার মিশিগান সফরে যান সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তার পরদিনই রিপাবলিকান পার্টির জন্য একই স্টেইটে যান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে সাবেক ও বর্তমান দুই প্রেসিডেন্টের এ স্টেইট সফর জানান দেয়, আসনটি কতখানি গুরুত্বপূর্ণ।
এ আসনে রিপাবলিকান সেনেট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দীতা করছেন মাইক রজার্স এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ।
এবিসি নিউজের বিশ্লেষণে জানানো হয়, রজার্স অভিজ্ঞ ও পুরনো প্রার্থী। অন্যদিকে সাইয়েদ বিজয়ী হলে তিনি হবেন দেশের প্রথম মুসলিম সেনেট সদস্য।
সাবেক স্বাস্থ্য খাতের নির্বাহী কর্মকর্তা সাইয়েদের প্রচারণায় আছে সর্বজনীন স্বাস্থ্যবীমা ও অভিবাসনবান্ধব মতামত। সর্বোপরি, সাইয়েদকে প্রগতিশীল প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করছেন ভোটাররা।
অন্যদিকে, অভিবাসী সাইয়েদকে ধর্মীয় বিশ্বাস ও জাতিগত পরিচয়ের কারণে উগ্রপন্থী হিসেবে মন্তব্য করেছেন রজার্স ও তার মিত্ররা।
তবে, সব মিলিয়ে সেনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মিশিগানে নতুন মুখ সাইয়েদের জয়ের সম্ভাবনাই এখন পর্যন্ত বেশি।
টেক্সাস
টানা ৩৩ বছর সেনেট নির্বাচনে জয়লাভ করে রিপাবলিকানদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে টেক্সাস। তবে বিশ্লেষণ বলছে, রিপাবলিকান প্রার্থীর সাম্প্রতিক কেলেঙ্কারির পর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে নামতে হবে রিপাবলিকান পার্টিকে।
দলটির সেনেট নির্বাচনে এ স্টেইটে প্রার্থী হলেন ট্রাম্পের মিত্র কেন প্যাক্সটন।
জনপরিসরে আসার পর থেকে বেশ কয়েকটি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছেন প্যাক্সটন। ২০২৩ সালে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তবে স্টেইট সেনেটে তিনি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান।
অন্যদিকে এ স্টেইটে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সাবেক আইনপ্রণেতা ও প্রেসবিটারিয়ান ধর্মযাজক জেমস টালারিকো।
প্যাক্টনের কম জনসমর্থন ও কেলেঙ্কারির অভিযোগকে কাজে লাগিয়ে টালারিকোর জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ডেমোক্র্যাটরা।
আলাস্কা
আলাস্কায় রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী সেনেটর ড্যান এস সালিভানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দীতা করছেন আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী ড্যান জে সালিভান। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রার্থী হিসেবে আছেন মেরি পেলটোলা।
ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির অভিযোগ, নামের সাদৃশ্য দিয়ে ভোটারদের দ্বিধায় ফেলতে এবং রিপাবলিকান পার্টির ফলাফল অনিশ্চিত করতে স্বতন্ত্র পদে একই নামের ব্যক্তিকে প্রার্থী বানিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।
অন্যদিকে, চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে ডেমোক্র্যাট হিসেবে একমাত্র নির্বাচিত প্রার্থী পেলটোলা। সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেয় বিশ্লেষণ।
ওহাইও
এ স্টেইটের সেনেট আসনে দুই দলেরই আছে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দী। রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হলেন বর্তমান সেনেটর জন হাস্টেড এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হলেন সাবেক সেনেটর শেরড ব্রাউন।
বিশ্লেষণ জানায়, প্রাথমিক পর্যায়ে ভোটাররা হাস্টেডের দিকে ঝুঁকলেও শেষ মুহূর্তে জীবনযাত্রায় ব্যয় বৃদ্ধি এবং ওহাইও-তে ডেটা সেন্টার স্থাপন নিয়ে শেষ মুহূর্তে প্রতিদ্বন্দীপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
ক্যানসাস
প্রায় এক শতাব্দী ধরে ক্যানসাসে দুটি কংগ্রেসনাল আসনই ছিল রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণে। তবে বিশ্লেষণ জানাচ্ছে, দীর্ঘ সময় পর মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে স্টেইটটিতে লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
রিপাবলিকান পার্টির সেনেট প্রার্থী রজার মার্শাল নিজেই সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দীতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক সেনেট প্রার্থী অ্যাডাম হেমিলটন অর্থনৈতিক সংকট ও ট্রাম্পের নীতির প্রতি মার্শালের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মেইন
স্টেইটটিতে ডেমোক্র্যাটদের প্রার্থী ছিলেন গ্রাহাম প্ল্যাটনার। তার বিরুদ্ধে যৌন নীপিড়নের অভিযোগ উঠলে শেষ সময়ে প্রার্থী হন জ্যাকসন।
ডেমোক্র্যাটদের দাবি, দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান সেনেটর ও প্রার্থী সুসান কলিন্সের নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটাতে চলেছেন জ্যাকসন। তবে শেষ সময়ে যোগ দেওয়া জ্যাকসনের ১০০ দিনের প্রচারণায় কে দখল করতে যাচ্ছে সেনেটের আসন-সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।
আইওয়া
আইওয়ার সেনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী অ্যাশলি হিনসনের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। শুরুতে নির্বাচনটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মনে না হলেও ইরান যুদ্ধের কারণে ব্যয় বৃদ্ধিতে স্টেইটটিতে কৃষকদের ওপর চাপ তৈরি হওয়ায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জশ টুরেকের প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরালো হয়েছে।
