
ইরানে মেয়েদের স্কুলে হামলা, নিহত ১৪৮

টিবিএন ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ১ ২০২৬, ১৫:৩১

হামলার ঘটনাটি ঘটেছে হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে। ছবি: রয়টার্স
- 0
এই হামলার জন্য তেহরান সরাসরি আ্যমেরিকা ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।
দক্ষিণ ইরানের একটি মেয়েদের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৪৮ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা । ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন বহু মানুষ।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, হামলার ঘটনাটি ঘটেছে হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে।
স্কুলটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-আইআরজিসির একটি ঘাঁটির প্রায় ৬০০ মিটার দূরে অবস্থিত। ঘাঁটিটি এর আগেও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই হামলার জন্য তেহরান সরাসরি আ্যমেরিকা ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।
আ্যমেরিকার সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড-সেন্টকম জানিয়েছে, তারা ঘটনাটির প্রতিবেদন গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।
আ্যমেরিকার গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেন্টকমের মুখপাত্র জানান, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং অনিচ্ছাকৃত ক্ষতি এড়াতে সব ধরনের সতর্কতা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস-আইডিএফ জানিয়েছে, ওই এলাকায় তাদের কোনো সামরিক অভিযান সম্পর্কে তারা অবগত নয়।
ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, শনিবার থেকে ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত এবং ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর জেনেভা ভিত্তিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি সহায়তা দল পাঠানো হয়েছে। এক কর্মকর্তা দাবি করেন, মিনাবের স্কুলটিতে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
বিবিসি বিস্ফোরণের পরবর্তী কিছু ভিডিও যাচাই করেছে, যেখানে একটি ভবন থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায় এবং আশপাশে মানুষের চিৎকার শোনা যায়। তবে নিহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরান সরকারের প্রতিক্রিয়া ও জনমত
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ ঘটনাকে “বর্বরোচিত কাজ” এবং “আগ্রাসীদের অপরাধের ইতিহাসে আরেকটি কালো অধ্যায়” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ সরকারের বক্তব্যে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, আবার অনেকে সরাসরি ইসলামি প্রজাতন্ত্রকেই দায়ী করেছেন।
একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, যথাযথ সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় শিশুদের মৃত্যুর দায় এড়ানো যায় না। ইন্টারনেট ও ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কথাও উল্লেখ করেছেন অনেকে।
স্কুলে হামলার এই ঘটনা এমন সময় ঘটলো, যখন আ্যমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন শহরে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালাচ্ছে। রোববারও হামলা অব্যাহত ছিল।
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এক বিমান হামলায় দেশের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি এবং তার বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তবে এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।