ইরানের কেশম দ্বীপে আবারো হামলা করেছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড। শনিবার (৭ নভেম্বর) ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউয এজেন্সি ও রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, এদিনে ভোরে কেশম দ্বীপে পরপর দুটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগত তেল রুট ও জলপথের অন্তর্ভুক্ত কেশম দ্বীপের সুযা এলাকায় দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ওই এলাকায় দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং একটি যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে এই হামলায় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি তাসনিম নিউয।
তেহরানের পক্ষ থেকে এ নিয়ে আর বিস্তারিত কোনো তথ্য না এলেও ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রেসিডেন্ট জানান, এটি ছিলো সীমিত হামলা, যা একটি ছোটখাটো বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে ছিলো।
ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেন যে, ইউএস সামরিক বাহিনী ইরানে একটি নতুন সীমিত বা প্রতীকী হামলা চালিয়েছে। তিনি এই সামরিক পদক্ষেপকে ‘সামান্য’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘ইরান একটি ছোটখাটো বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বা অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট ডিভাইস পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করেছিল এবং ইউএস বাহিনী মাত্র ১৫ মিনিট, হয়তো পাঁচ মিনিটে সেটি ধ্বংস করে দিয়েছে।’
তবে তিনি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিপর্যয়কর পরাজয়ের পর এটিই প্রথম সামরিক হামলা। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো এবং ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।
খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন। নির্বাচনের পর থেকে ট্রাম্প একদিকে ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে যুদ্ধ অবসানের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন বলেও ইঙ্গিত দিচ্ছেন।