ইরানে কারাবন্দি নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদীর শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, তাকে রাজধানী তেহরানে স্থানান্তরে রাজি হয়নি ইরানি কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে তার জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে তার পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
২০২৩ সালে কারাগারে থাকা অবস্থাতেই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান ৫৪ বছর বয়সী নার্গিস মোহাম্মদী। নারীর অধিকার এবং মৃত্যুদণ্ড বিলোপ আন্দোলনে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকার কারণে একাধিকবার কারাবন্দি হন তিনি। কিন্তু বর্তমানে নার্গিসের শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
গত সপ্তাহে অসুস্থ্য হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। নার্গিস মোহাম্মদীর স্বামী তাঘি রাহমানি জানান, তার স্ত্রীর হৃদরোগ ও ফুসফুসের জটিলতা রয়েছে। হৃদযন্ত্রের দুটি প্রধান ধমনি শতভাগ ব্লক হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি। রাহমানী বলেন, জাঞ্জান প্রদেশের মেডিকেল কর্তৃপক্ষ বলছে, নার্গিসের অসুস্থতা এতটাই গুরুতর যে, সেখানে তার চিকিৎসা সম্ভব নয়। কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থার বিধিনিষেধের কারণেই তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া আগের অস্ত্রোপচারের জটিলতাও রয়েছে তার শরীরে।
বর্তমানে ফ্রান্সে বসবাস করছেন নার্গিসের স্বামী তাঘি রাহমানি। তাদের ১৯ বছর বয়সি দুটি জমজ সন্তান রয়েছে। রাহমানী অভিযোগ করেন, পরিবারের চাপের মুখে ইরানি কর্তৃপক্ষ আপাতত এক সপ্তাহের জন্য হাসপাতালে রাখার অনুমতি দিয়েছে নার্গিসকে। তবে নিরাপত্তা বাহিনী আশঙ্কা করছে, তেহরানের এভিন কারাগারে ফিরলে তিনি আবারও মানবাধিকার আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে উঠতে পারেন।
নার্গিস মোহাম্মদীর আইনজীবী শিরিন আরদাকানি অভিযোগ করেছেন, ইরানি সরকার ধীরে ধীরে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একই সঙ্গে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রতি মানবাধিকার ইস্যুকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রাখার আহ্বান জানিয়েছে তার পরিবার। শিরিন বলেন, নার্গিসের জীবন, মর্যাদা ও মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষা করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। কিন্তু এখন পর্যন্ত শক্ত কোনো আন্তর্জাতিক অবস্থান তারা দেখছেন না।