সামরিক শাসন জারির অভিযোগ, দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট পেলেন ভয়াবহ শাস্তি

টিবিএন ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৯ ২০২৬, ১৬:১৬

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। ছবি: রয়টার্স

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। ছবি: রয়টার্স

  • 0

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্বে থাকার সময় হঠাৎ রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি মোকাবিলার অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক শাসন জারির ঘোষণা দেন ইওল।

ক্ষমতায় থাকাকালীন সামরিক শাসন জারির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত।

সিউলের কেন্দ্রীয় আদালতে রায় চলাকালীন বিচারপতি জি গুই ইয়োন বলেন, ‘ইওল জাতীয় সংসদ বন্ধ করতে সামরিক সেনা মোতায়েন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে দেশের সাংবিধানিক আইন লঙ্ঘন করেছেন।’

‘তার কার্যক্রম গভীরভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যা কঠোর শাস্তিযোগ্য।’

রায় ঘোষণার পরপর ইওলের আইনজীবী একে ভিত্তি, প্রমাণবিহীন ও বিচারকের পূর্বলিখিত বক্তব্য হিসেবে দাবি করেন। তবে ওই সময়ও বেশ নির্লিপ্ত ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট।

এদিকে রায় ঘোষণার আগে আদালত প্রাঙ্গনে জড়ো হয় ইওলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সমর্থকরা।

প্রিয় নেতার মুক্তির দাবিতে তাদের হাতে দেখা যায়, ‘ইউন অ্যাগেইন’ লেখা ব্যানার।

একই সঙ্গে ইওল বিরোধীরা আদালতের সামনে জড়ো হয়েছিল অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানাতে।

তবে দেশটির প্রচলিত রীতিতে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে নিরুৎসাহিত করা হয়।

একই সঙ্গে ৬৫ বছর বয়সী এ নেতার বয়স বিবেচনায় এবং পূর্বে অপরাধমূলক তথ্যের রেকর্ড না থাকায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ায় এক সময় তুমুল জনপ্রিয় নেতা হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত ছিলেন ইওল।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্বে থাকার সময় হঠাৎ রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি মোকাবিলার অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক শাসন জারির ঘোষণা দেন ইওল।

তবে বিরোধী দলের চাপ ও স্ত্রী কিম কিওন হির লাগামহীন দূর্নীতির অভিযোগে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেন ইওল, এ খবর দ্রুতই ছড়িয়ে পড়েছিল সর্বস্তরে।

এমন অবস্থায় ইওলের বিরুদ্ধে আন্দোলন, দেশদ্রোহের মামলা, গণতন্ত্র ক্ষুন্ন করার অভিযোগ উঠলে সর্বশেষ তাকে ঠেলে দেয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে।