স্পেনে ভয়াবহ হাই-স্পিড ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় তোলেডো প্রদেশে দুটি ট্রেনের এই মর্মান্তিক সংঘর্ষের পর বৃহস্পতিবারও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে নতুন করে আর কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
আঞ্চলিক সরকারপ্রধান এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পেজ জানান, রাতভর উদ্ধার অভিযান চলাকালে আরও মরদেহের অংশবিশেষ পাওয়া গেছে এবং বর্তমানে ক্রেনের সাহায্যে উল্টে থাকা বগিতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদারে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৮০০-এর বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য, ২০০টির বেশি যানবাহন, তিনটি হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং প্রশিক্ষিত সার্চ ডগ মোতায়েন করেছে। আদালতের নির্দেশনায় মাদ্রিদ-সেভিয়া হাই-স্পিড রেললাইনের দুই পাশে দুই কিলোমিটার এলাকাকে এক্সক্লুশন জোন ঘোষণা করে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে এখনও ৫৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতদের স্মরণে স্পেন সরকার তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তোলেডোতে জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম সমন্বয় করতে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং দুর্ঘটনার প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ ঘটনায় গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন পোপ লিও।
পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তের ভাষ্য অনুযায়ী, সিগন্যাল ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে কয়েকটি ট্রেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে থেমে গিয়েছিল। এরপর রাষ্ট্রীয় রেল অপারেটর রেনফের একটি ট্রেনকে চলার অনুমতি দেওয়া হয়, অথচ সামনে ইরিও পরিচালিত আরেকটি ট্রেন তখনও লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। এর ফলেই এই ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে।
চলতি বছর স্পেনে এটি দ্বিতীয় প্রাণঘাতী হাই-স্পিড ট্রেন দুর্ঘটনা, যার ফলে দেশের রেল নিরাপত্তা, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিনিয়োগ নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও নতুন প্রশ্ন উঠেছে। এর মাঝেই রেল নিরাপত্তায় বিনিয়োগের দাবিতে পূর্বনির্ধারিত ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছেন দেশটির ট্রেনচালকেরা।
সুত্র: রয়টার্স।