আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন কমে যাওয়া, মূল্যস্ফীতি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ, ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষকে কেন্দ্র করে একাধিকবার রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষকরা। তবে এবার তবে বড় ব্যবধানে ডেমোক্র্যাটদের জয় পাওয়ার পথে ৬টি বাধার কথা উল্লেখ করেছেন ৬ বিশ্লেষক ও দলীয় কৌশলবিদরা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ বিশ্লেষণী তথ্য।
হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন কম
হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসে ৪৩৫টি আসনের মধ্যে এ বছর মধ্যবর্তী নির্বাচনে মাত্র ৪০ থেকে ৫০টি আসনে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এ কারণে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেলেও আসন বাড়ার সংখ্যা সীমিত থাকতে পারে।
সেনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অনিশ্চিত
১০০ সদস্যের সেনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনে অন্তত চারটি আসন বাড়াতে হবে। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের বড় ব্যবধানে জয় পাওয়া স্টেইটগুলোতে ডেমোক্র্যাটদের জয় কঠিন হতে পারে। মেইন ও মিশিগানের মতো স্টেইটগুলোতেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাশার চেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে।
ভোটার উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
রয়টার্স, ইপসসের জরিপে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহ বেশি দেখা গেলেও তরুণ, কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্পানিক ও অন্যান্য গোষ্ঠীগত ভোটারদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মধ্যবর্তী নির্বাচনে এসব গোষ্ঠীর ভোট দেওয়ার হার সাধারণত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বছরের তুলনায় কম থাকে। তাদের উপস্থিতি কম হলে ডেমোক্র্যাটরা প্রত্যাশিত ফল নাও পেতে পারে। অন্যদিকে এবারের নির্বাচনে পুরুষ ও গোষ্ঠীগত ভোটাররা ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় সমর্থক।
অর্থায়নে এগিয়ে রিপাবলিকানরা
নির্বাচনী প্রচারে অর্থের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে রিপাবলিকানরা। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, রিপাবলিকানদের জাতীয় কমিটি ও মিত্র রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর হাতে নগদ অর্থ ছিল প্রায় ৬১৪ মিলিয়ন ডলার। ডেমোক্র্যাটদের হাতে ছিল ৩৯২ মিলিয়ন ডলার। শেষ মুহূর্তে বেশি অর্থ ব্যয় করে রিপাবলিকানরা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আসনগুলোর ফল প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জনমত জরিপে ভুল পূর্বাভাসের আশঙ্কা
সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনী জনমত জরিপে রিপাবলিকানদের সমর্থন কম দেখানোর নজির রয়েছে। রয়টার্স/ইপসসের এক জরিপে কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৪৩ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৩৫ শতাংশ। তবে জরিপের এই ব্যবধান শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলে প্রতিফলিত হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সমাজতন্ত্রের অভিযোগে ভোটার প্রভাবিত হওয়ার ঝুঁকি
ট্রাম্প ও রিপাবলিকান প্রার্থীরা ডেমোক্র্যাটদের সমাজতন্ত্রী ও উগ্রপন্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রচারণা দোটানায় থাকা ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে যেসব আসনে দুই দলের মধ্যে ব্যবধান কম, সেখানে এ ধরনের প্রচারণা ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা কমিয়ে দিতে পারে।