আইএসে সম্পৃক্ততা
৬ ফরাসি নাগরিকের যাবজ্জীবন, একজনের ১৫ বছরের কারাদণ্ড
- 0


প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭ ২০২৬, ১৩:৪৫ হালনাগাদ: অক্টোবর ২৭ ২০২৬, ১৩:৫৬
ইরাকে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটে (আইএস) সম্পৃক্ততার দায়ে সাত ফরাসি নাগরিককে কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। তাদের মধ্যে ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপরজনকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইরাকের কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
দণ্ডপ্রাপ্ত সাতজন ৪৭ জন ফরাসি নাগরিকের একটি দলের সদস্য। আইএসের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাদের আগে সিরিয়ায় আটক রাখা হয়েছিল। গত বছর বিচারের মুখোমুখি করতে তাদের ইরাকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ইরাকের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল জানিয়েছে, আদালতের কার্যক্রমে আসামিদের আইনজীবী ও ফরাসি দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আদালতের বিবৃতিতে বলা হয়, ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি, ইরাক ও সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করা এবং অন্যান্য দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়ার কারণে ওই সাতজনকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
বর্তমানে ইরাকে হাজারো সন্দেহভাজন আইএস সদস্য আটক রয়েছেন। এর মধ্যে ৫ হাজার ৭০০ জনের বেশি বন্দিকে গত জানুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব সিরিয়া থেকে ইরাকে স্থানান্তর করা হয়। সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) মধ্যে সংঘর্ষের পর বন্দিদের স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আগে আইএস সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের আটক রাখার কেন্দ্রগুলো পাহারা দিত এসডিএফ।
জানুয়ারির সংঘর্ষের সময় আইএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বন্দি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে আরও বড় ধরনের বন্দি পলায়নের আশঙ্কায় অবশিষ্ট বন্দিদের ইরাকে স্থানান্তর করা হয়।
ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আবুদি এপিকে জানান, আইএস সদস্য হওয়ার অভিযোগে ইরাকে আটক প্রায় ৪ হাজার সিরীয় নাগরিককে বিচারের জন্য সিরিয়ার কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়েছে দামেস্ক। তবে বাগদাদ সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরাকি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর কিছু বিদেশি বন্দিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে, যাতে তারা সেখানে সাজা ভোগ করতে পারেন। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত ফরাসি নাগরিকদের শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির রয়েছে ইরাকে। তবে যেসব দেশের আইনে মৃত্যুদণ্ড নেই, সেসব দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ইরাক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে না বলে জানিয়েছে এপি।
২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয় আইএস। ওই সময় নিজেদের ঘোষিত খেলাফত প্রতিষ্ঠা করে জঙ্গিগোষ্ঠীটি। পরবর্তী সময়ে সামরিক অভিযানের মুখে দখল করা ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ হারায় তারা। তবে ইরাক ও সিরিয়ায় এখনো আইএসের সক্রিয় সেল রয়েছে, যারা মাঝেমধ্যে হামলা চালায়।
